আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ক্রাইম ক্রনিকল


ইরানের সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো বেসামরিক স্থাপনা ধ্বংস করার হুমকি যুদ্ধাপরাধের শামিল কি না—এমন প্রশ্নের সরাসরি জবাব দেননি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।


শুক্রবার হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদক শন ম্যাককরিসের এই প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, তিনি এই প্রশ্নের উত্তর দেবেন না। এর পরিবর্তে তিনি প্রশ্নকারী সংবাদমাধ্যমটির সমালোচনা করে একে "ব্যর্থ" প্রতিষ্ঠান বলে আখ্যায়িত করেন।


এর আগে ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, ইরান হরমুজ প্রণালীতে কোনো জাহাজ লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র, রকেট, ড্রোন বা অন্য কোনো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালালেই যুক্তরাষ্ট্র প্রতিবার একটি করে সেতু বা বিদ্যুৎকেন্দ্র বোমা মেরে ধ্বংস করবে—তেহরান শহরের কেন্দ্র বা তার আশপাশের স্থাপনাও এর বাইরে থাকবে না। আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের একটি বড় অংশ মনে করেন, এভাবে বেসামরিক অবকাঠামোকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু বানানো যুদ্ধাপরাধের সংজ্ঞার আওতায় পড়তে পারে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও অবশ্য মন্তব্য করেছেন, ট্রাম্পের সামরিক নীতি "চোখের বদলে চোখ" নয়, বরং তার চেয়েও কঠোর প্রতিক্রিয়ার নীতি।


গত ২৭ জুন যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত ক্রমেই তীব্র হয়েছে। টানা প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে ইরানে মার্কিন বিমান হামলা অব্যাহত রয়েছে। ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক এই হামলার পর্যায়ে দেশটিতে অন্তত ৫০ জন নিহত এবং ৫০০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। অন্যদিকে হরমুজ প্রণালীতে ইরানের পাল্টা হামলায় মার্কিন সেনাসদস্যদের হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে, এবং জর্ডানে এক মার্কিন বিমানঘাঁটিতে হামলায় এক মার্কিন সেনা সদস্যের মৃত্যুও নিশ্চিত হয়েছে।


সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরাও লোহিত সাগরে সৌদি জাহাজ লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে, যা দিয়ে অঞ্চলজুড়ে অস্থিরতা আরও বেড়েছে। এর প্রভাবে আন্তর্জাতিক তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।


শুক্রবার হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস ডিনারে ট্রাম্প যুদ্ধের অগ্রগতি নিয়ে বলেন, পরিস্থিতি ভালোভাবেই এগোচ্ছে এবং ইরানের নৌ ও বিমান সক্ষমতা কার্যত ধ্বংস হয়ে গেছে বলে তিনি দাবি করেন। তিনি আরও বলেন, ইরান হয়তো সমঝোতায় আগ্রহী, তবে এখনো তা করার জন্য প্রস্তুত নয় বলে তার ধারণা।


ইরান যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার কৌশল নিয়ে প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামনে দুটি পথ খোলা রয়েছে—হয় বোমাবর্ষণ অব্যাহত রাখা ও আরও জোরদার করা, নয়তো কূটনৈতিক সমঝোতায় পৌঁছানো। যদিও একজন ইরানি কর্মকর্তা সম্প্রতি ট্রাম্পের এই মন্তব্য নাকচ করে এই যুদ্ধকে "কখনো শেষ না হওয়ার যুদ্ধ" বলে মন্তব্য করেছেন।


উল্লেখ্য, নিউইয়র্ক টাইমসের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের সাম্প্রতিক উত্তেজনার একটি প্রেক্ষাপটও রয়েছে—নতুন এয়ারফোর্স নিরাপত্তা-সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশের জেরে পত্রিকাটির চারজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে সমন জারি করেছিল বিচার মন্ত্রণালয়, যা পরে প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়।