স্পোর্টস ডেস্ক | ক্রাইম ক্রনিকল


মাত্র ১৮ বছর বয়সেই ফুটবল বিশ্বের অন্যতম আলোচিত নাম হয়ে উঠেছেন স্পেন ও বার্সেলোনার তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামাল। ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের পর তাঁর প্রতিভা নিয়ে আলোচনা এখন নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। অনেকেই তাঁকে লিওনেল মেসির উত্তরসূরি হিসেবে দেখছেন, কেউ কেউ আবার মনে করছেন, এই বয়সে ইয়ামাল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর চেয়েও এগিয়ে।


সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে নতুন প্রজন্মের সেরা ফুটবলারের নাম জানতে চাইলে লিওনেল মেসি বলেন, “আমার কাছে সে লামিনে ইয়ামাল। কোনো সন্দেহ নেই, নতুন প্রজন্মের মধ্যে সে-ই সেরা।”


বার্সেলোনার জার্সিতে ইতিমধ্যে ১৫০টির বেশি ম্যাচ খেলে ফেলেছেন ইয়ামাল। ১৮ বছর বয়সে পৌঁছানোর আগেই তিনি চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনাল খেলেছেন, ইউরো জিতেছেন এবং বার্সেলোনার ঐতিহ্যবাহী ১০ নম্বর জার্সিও পেয়েছেন—যে জার্সি দীর্ঘদিন মেসির ছিল।




ব্রাজিলের কিংবদন্তি রোনালদিনিয়োও ইয়ামালকে নিয়ে উচ্ছ্বসিত। তিনি বলেন, “মেসি আর আমি ইতিহাস গড়েছি, এখন লামিনে ইয়ামালের পালা। এত অল্প বয়সে সে যা দেখিয়েছে, তা অসাধারণ।”


স্পেন জাতীয় দলের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে ইয়ামালকে ‘ঈশ্বরপ্রদত্ত প্রতিভা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর ভাষায়, “ফুটবল প্রতিভাদের মধ্যে বিশেষ কিছু থাকে, আর ইয়ামালের মধ্যেও সেটা আছে। তাকে দেখলেই বোঝা যায়, সে বিশেষ কিছু করার জন্যই এসেছে।”


বার্সেলোনার প্রধান কোচ হান্সি ফ্লিকও মুগ্ধ এই তরুণকে নিয়ে। ফ্লিক বলেন, “সে বিশেষ একজন খেলোয়াড়, একজন জিনিয়াস। বড় ম্যাচে সে নিজের সেরাটা দেখায়। সাধারণত এমন পরিপক্বতা ফুটবলাররা ২৪ বা ২৫ বছর বয়সে অর্জন করে।”


ইংল্যান্ডের সাবেক তারকা রিও ফার্দিনান্দ আরও এক ধাপ এগিয়ে বলেছেন, “১৭-১৮ বছর বয়সে ইয়ামাল যা করেছে, তা আগে খুব কমই দেখা গেছে। তার সম্ভাবনার সীমা মেসি ও রোনালদোর চেয়েও বড় হতে পারে।”


স্পেনের বয়সভিত্তিক দলের সাবেক কোচ হুলেন গেরেরোর মতে, ইয়ামালের সবচেয়ে বড় শক্তি তার ফুটবল বুদ্ধিমত্তা। তিনি বলেন, “সে শুধু উইঙ্গার নয়। ভবিষ্যতে তাকে ফলস নাইন বা আরও কেন্দ্রীয় ভূমিকায় খেলতে দেখলেও আমি অবাক হব না। সে খেলার জায়গা ও পরিস্থিতি খুব দ্রুত বুঝতে পারে।”


বার্সেলোনার একাডেমি লা মাসিয়ার সাবেক কোচ আলবার্ট পুইগও মনে করেন, ইয়ামালের ভবিষ্যৎ আরও বড়। তাঁর মতে, “খেলার মধ্যে যত বেশি বল পাবে, তত বেশি প্রভাব ফেলবে। মেসির মতো সেও ধীরে ধীরে উইং থেকে মাঠের কেন্দ্রীয় অঞ্চলে চলে আসতে পারে।”


তবে ইয়ামাল নিজে মেসির সঙ্গে তুলনা করতে রাজি নন। তাঁর ভাষায়, “মেসি ইতিহাসের সেরা ফুটবলার। তাঁর সঙ্গে আমার তুলনা হওয়াটা সম্মানের, কিন্তু আমি মেসি হতে চাই না। আমি নিজের পথেই এগোতে চাই।”


ব্যক্তিগত পুরস্কারের চেয়ে দলগত সাফল্যকেই বেশি গুরুত্ব দেন তিনি। ব্যালন ডি’অর প্রসঙ্গে ইয়ামাল বলেন, “আমি এসব নিয়ে ভাবি না। আমি ফুটবল উপভোগ করতে চাই, বার্সেলোনা ও স্পেনের হয়ে শিরোপা জিততে চাই।”


এথেলটিকো মাদ্রিদের সাথে ইয়ামালের টাচম্যাপ। ছবি: বিবিসি


আগামী বিশ্বকাপে স্পেনকে অন্যতম শিরোপাপ্রত্যাশী দল হিসেবে ধরা হচ্ছে। আর সেই দলের অন্যতম প্রধান ভরসা হবেন লামিনে ইয়ামাল। বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নের কথা তিনি নিজেও গোপন করেন না।


ইয়ামাল বলেন, “ছোটবেলা থেকেই বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন দেখেছি। গ্যালারিতে মাকে বসে থাকতে দেখার স্বপ্ন দেখেছি। আশা করি, একদিন বিশ্বকাপও জিততে পারব।”


ফুটবল বিশ্ব তাঁকে হয়তো ‘নতুন মেসি’ বলতে পারে, কিন্তু ইয়ামাল বারবার জানিয়ে দিচ্ছেন—তিনি কারও ছায়া হতে চান না। তাঁর লক্ষ্য একটাই, নিজের নামেই নতুন ইতিহাস লেখা।


তথ্যসূত্র: বিবিসি স্পোর্ট