স্টাফ রিপোর্টার | ক্রাইম ক্রনিকল
ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে তেহরানে আসা বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সামনে পবিত্র কোরআনের বিভিন্ন আয়াত তেলাওয়াত করা হয়েছে। তবে সৌদি আরবের প্রতিনিধিদলের সামনে সুরা আলে ইমরানের ১৩ নম্বর আয়াত পাঠ করায় এর কূটনৈতিক তাৎপর্য নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
শুক্রবার অনুষ্ঠিত শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠানে সৌদি আরবের পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন দেশটির উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ালিদ আল-খেরেজি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের জন্য ভিন্ন ভিন্ন কোরআনের আয়াত তেলাওয়াত করা হয়। সৌদি প্রতিনিধিদলের ক্ষেত্রে পাঠ করা হয় সুরা আলে ইমরানের ১৩ নম্বর আয়াত, যেখানে ঐতিহাসিক বদর যুদ্ধের প্রসঙ্গ উঠে এসেছে।
ওই আয়াতে আল্লাহর পথে যুদ্ধরত মুমিনদের সঙ্গে অবিশ্বাসীদের সংঘর্ষের বর্ণনা রয়েছে এবং আল্লাহর সাহায্যে মুমিনদের বিজয়ের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। এই আয়াত নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এর সম্ভাব্য বার্তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে।
লন্ডনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনাল এক প্রতিবেদনে বলেছে, এই আয়াত পাঠের মাধ্যমে ইরান প্রতীকীভাবে নিজেদের অবস্থানকে ‘আল্লাহর পথে’ এবং প্রতিপক্ষকে বিপরীত অবস্থানে উপস্থাপন করার ইঙ্গিত দিতে চেয়েছে – এমন ধারণা বিশ্লেষকদের একটি অংশের। তবে এ বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
অন্যদিকে, আয়াতটি নির্বাচনকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ এটিকে কেবল ধর্মীয় রীতি হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ এর মধ্যে আঞ্চলিক রাজনীতি ও কূটনৈতিক বার্তা খুঁজে পাচ্ছেন।
তবে ইরান সরকার বা সৌদি আরবের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য প্রকাশ করা হয়নি। ফলে আয়াতটি নির্বাচন সত্যিই কোনো রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক বার্তা বহন করেছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।