আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ক্রাইম ক্রনিকল
দীর্ঘ আলোচনার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি চুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে সম্পন্ন হওয়া সমঝোতা চুক্তি আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হবে।
গরিবাবাদির ভাষ্য অনুযায়ী, চুক্তির অংশ হিসেবে আজ রাতেই বিভিন্ন ফ্রন্টে চলমান সামরিক অভিযান ও সংঘাতের স্থায়ী অবসানের ঘোষণা দেওয়া হবে। এতে লেবাননকে ঘিরে চলমান সংঘর্ষও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। পাশাপাশি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধও প্রত্যাহার করা হবে বলে তিনি দাবি করেন।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, কয়েক সপ্তাহ ধরে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে নিবিড় আলোচনা চলছিল। আলোচনায় উভয় পক্ষের ভিন্নমুখী অবস্থানের মধ্যে সমন্বয় ঘটিয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
চুক্তির সম্ভাব্য শর্ত অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় পুরোপুরি উন্মুক্ত করা হবে এবং যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করবে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক সংঘাত প্রশমনের বিষয়টিও চুক্তির অংশ হিসেবে গুরুত্ব পেয়েছে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, চুক্তির স্থায়িত্ব অনেকাংশে নির্ভর করবে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর অবস্থানের ওপর। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের ঘোষণায় সরাসরি ইসরায়েল বা হিজবুল্লাহর নাম উল্লেখ না থাকলেও লেবানন ইস্যুই এখন সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চুক্তিকে একটি বড় কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে তুলে ধরেছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বার্তায় হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত হওয়া এবং নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয়টি উল্লেখ করে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তবে চুক্তির পূর্ণাঙ্গ নথি এখনো প্রকাশ করা হয়নি। বিশেষ করে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে কী ধরনের সমঝোতা হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, পরমাণু কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নিয়ে আরও আলোচনা ও সমঝোতার প্রয়োজন হতে পারে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, এই সমঝোতা মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত করতে পারে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর যুদ্ধের যে চাপ তৈরি হয়েছিল, তা লাঘবে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে আঞ্চলিক বাস্তবতা ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর অবস্থান চুক্তির দীর্ঘমেয়াদি সফলতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি চূড়ান্ত, শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে স্বাক্ষর; আজই যুদ্ধবিরতির ঘোষণা
ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি (সংগৃহীত ছবি)