আন্তর্জাতিক ডেস্ক।  ক্রাইম ক্রনিকল 


রাশিয়ার রাজধানী মস্কো লক্ষ্য করে রাতভর অন্তত ৬০টি বিস্ফোরকবাহী ড্রোন নিক্ষেপ করেছে ইউক্রেন। তবে এসব ড্রোন লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছানোর আগেই রুশ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেগুলো ভূপাতিত করেছে বলে দাবি করেছে মস্কো।


রোববার রাত থেকে সোমবার ভোর পর্যন্ত চলা এই হামলার পর নিরাপত্তার স্বার্থে মস্কোর আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে রাজধানীর চারটি প্রধান বিমানবন্দরের কার্যক্রমও কয়েক ঘণ্টার জন্য স্থগিত রাখা হয়।


মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় জানান, ইউক্রেন থেকে আসা সব ড্রোন সফলভাবে ধ্বংস করা হয়েছে।


তিনি বলেন, “মস্কোর বিভিন্ন এলাকায় ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেছে। জরুরি সেবা সংস্থার কর্মীরা সেগুলো অপসারণে কাজ করছেন।”




রুশ কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে শেরেমেতিয়েভো, দোমোদেদোভো, ভনুকোভো ও ঝুকোভস্কি বিমানবন্দরে বিমান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। কয়েক ঘণ্টা পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে বিমানবন্দরগুলোর কার্যক্রম পুনরায় চালু করা হয়।


রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সাম্প্রতিক পর্যায়ে ড্রোন হামলা ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অস্ত্রে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে ইউক্রেন সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে রাশিয়ার অভ্যন্তরে সামরিক, জ্বালানি ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলার প্রচেষ্টা বাড়িয়েছে।


গত সপ্তাহেও মস্কোর একটি তেল শোধনাগারকে লক্ষ্য করে দুই শতাধিক ড্রোন হামলার চেষ্টা হয়েছিল বলে দাবি করেছিল রাশিয়া। সে সময়ও রুশ প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, সব ড্রোন আকাশেই ধ্বংস করা হয়েছে।


বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হামলার পরিধি সীমান্তবর্তী অঞ্চল ছাড়িয়ে এখন রাজধানী মস্কো পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। ফলে রাশিয়ার রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কেন্দ্র হিসেবে মস্কোর নিরাপত্তা এখন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।


এদিকে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে সর্বশেষ হামলা সম্পর্কে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।


২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে সংঘাত অব্যাহত রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে উভয় পক্ষই ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে, যা যুদ্ধের কৌশলগত চিত্রে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।