স্টাফ রিপোর্টার | ক্রাইম ক্রনিকল 


বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রায়ই জন্ম নেয় নতুন নায়ক। ২০২৬ বিশ্বকাপের শুরুতেই তেমন এক গল্পের নাম ভোজিনহা।


কেপ ভার্দের ৪০ বছর বয়সী গোলরক্ষক জোসিমার জোসে এভোরা দিয়াস—যিনি ফুটবল বিশ্বে ভোজিনহা নামেই পরিচিত—স্পেনের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে এমন এক পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছেন, যা বিশ্বকাপের অন্যতম আলোচিত ঘটনা হয়ে উঠেছে।


জর্জিয়ার আটলান্টা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে স্পেন ছিল পরিষ্কার ফেবারিট। বলের দখল, আক্রমণ, সুযোগ সৃষ্টি—সবকিছুতেই আধিপত্য ছিল তাদের। ম্যাচজুড়ে ৭৪ শতাংশ সময় বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছে স্প্যানিশরা এবং নিয়েছে ২৭টি শট। কিন্তু গোলের দেখা পায়নি একবারও।


এর প্রধান কারণ ভোজিনহা।


ম্যাচে সাতটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে স্পেনের সব আক্রমণ ব্যর্থ করে দেন কেপ ভার্দের এই গোলরক্ষক। তার দৃঢ়তায় ০-০ গোলের ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়ে আফ্রিকার ছোট্ট দেশটি।


বিশ্বকাপে এটিই ছিল ভোজিনহার অভিষেক ম্যাচ। ৪০ বছর বয়সে বিশ্বকাপে অভিষেক হওয়ায় তিনি ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বাধিক বয়সী অভিষিক্ত ফুটবলার। তার চেয়ে বেশি বয়সে বিশ্বকাপে প্রথম খেলেছিলেন মিশরের কিংবদন্তি গোলরক্ষক এসাম হাদারি।


ভোজিনহার নামের পেছনেও আছে একটি ফুটবল গল্প। ১৯৮৬ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের হয়ে খেলা রাইট ব্যাক জোসিমারের বড় ভক্ত ছিলেন তার বাবা। সেই ভালোবাসা থেকেই ছেলের নাম রাখেন জোসিমার।


দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে কেপ ভার্দের জাতীয় দলের হয়ে খেলছেন ভোজিনহা। ২০১২ সালে জাতীয় দলে অভিষেকের পর ৮০টির বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন তিনি। বর্তমানে পর্তুগালের দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব চাভেসের হয়ে খেলছেন এই গোলরক্ষক।


তবে স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচটিই যেন তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপন হয়ে উঠেছে।


ম্যাচ শেষে আবেগ সামলাতে পারেননি ভোজিনহা। চোখের পানি মুছতে দেখা যায় তাকে। ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দের জন্য স্পেনের মতো বিশ্বশক্তির বিপক্ষে ড্র করাও ছিল বিশাল অর্জন।


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি। ম্যাচ শুরুর আগে তার ইনস্টাগ্রাম অনুসারী ছিল মাত্র ৪৫ হাজার। প্রথমার্ধ শেষে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩ লাখ ৫১ হাজারে। ম্যাচ শেষ হওয়ার আগেই অনুসারীর সংখ্যা ছাড়িয়ে যায় ১০ লাখ।


অনেকেই ভেবেছিলেন, প্রথমবার বিশ্বকাপে জায়গা পাওয়াটাই কেপ ভার্দের সবচেয়ে বড় সাফল্য। কিন্তু ভোজিনহা দেখিয়ে দিলেন, তারা শুধু অংশ নিতে নয়, প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতেও এসেছে।


স্পেনের বিপক্ষে সাত সেভ, ক্লিন শিট এবং বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসা ভোজিনহা এখন শুধু কেপ ভার্দের নন, ২০২৬ বিশ্বকাপের অন্যতম অনুপ্রেরণাদায়ক গল্প।