আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ক্রাইম ক্রনিকল
১৬ বছরের কম বয়সী কিশোর-কিশোরীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে কঠোর আইন প্রণয়নের পথে এগোচ্ছে যুক্তরাজ্য। প্রস্তাবিত এই উদ্যোগকে “অস্ট্রেলিয়া প্লাস” হিসেবে আখ্যায়িত করা হচ্ছে, যা থেকে বোঝা যায় অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞতা ও চ্যালেঞ্জগুলোকে বিবেচনায় নিয়েই নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করছে ব্রিটিশ সরকার।
সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের এআই ও অনলাইন নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রী কানিশকা নারায়ণ অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরা ও সিডনি সফরকালে জানান, এই নিষেধাজ্ঞার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো এর কার্যকর বাস্তবায়ন। বিশেষ করে ব্যবহারকারীদের বয়স যাচাই এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাপগুলোতে আরোপিত বিধিনিষেধ বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, সে বিষয়টিকে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।
অস্ট্রেলিয়ায় এ ধরণের পদক্ষেপ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নানা সমালোচনা দেখা গেছে। অনেক কিশোর দাবি করেছে, নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন উপায়ে অনলাইনে সক্রিয় থাকা তাদের জন্য খুবই সহজ।
তবে কানিশকা নারায়ণ স্বীকার করেছেন যে, এই উদ্যোগ কোনো তাৎক্ষণিক বা জাদুকরী সমাধান নয়। তার মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন আনাই মূল লক্ষ্য। অস্ট্রেলিয়ার রাজধানী ক্যানবেরার কর্মকর্তারাও মনে করেন, একদিনের মধ্যে তরুণদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়; বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের মনোভাব ও ব্যবহারিক অভ্যাস পরিবর্তন করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
যদিও স্বল্পমেয়াদে এই আইন কতটা সফল হবে তা নিয়ে কিছু অনিশ্চয়তা রয়েছে, তবুও তরুণদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনটি পাস করার বিষয়ে সরকারগুলো দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে।