আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ক্রাইম ক্রনিকল
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ঘোষিত নতুন সমঝোতা মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমার আশা তৈরি করলেও, চুক্তিটি নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের অবস্থানে স্পষ্ট পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক বাস্তবতা ও অগ্রাধিকার ভিন্ন হওয়ায় এই দূরত্ব আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
ইসরায়েলের সর্বাধিক প্রচারিত দৈনিক পত্রিকা Yedioth Ahronoth সোমবার তাদের প্রথম পাতার প্রধান শিরোনাম করেছে— ‘Confrontation’ বা ‘মুখোমুখি অবস্থান’। তবে এটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নয়, বরং ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যকার নীতিগত মতপার্থক্যের ইঙ্গিত বহন করছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চুক্তির বিষয়ে ইসরায়েলকে অবহিত করা হলেও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় তাদের সঙ্গে বিস্তারিত পরামর্শ করা হয়নি। এমনকি নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে “খুবই কঠিন একজন ব্যক্তি” বলেও মন্তব্য করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে আসন্ন মিডটার্ম কংগ্রেস নির্বাচন এবং যুদ্ধ নিয়ে জনমতের চাপ ট্রাম্পকে দ্রুত সংঘাতের অবসান ঘটানোর দিকে ঠেলে দিয়েছে। দীর্ঘস্থায়ী সামরিক সংঘাতের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক মূল্যও তার প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছিল।
অন্যদিকে, ইসরায়েলে নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক পরিস্থিতি ভিন্ন। কয়েক মাসের মধ্যেই দেশটিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং বিভিন্ন জনমত জরিপে তার জনপ্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, ক্ষমতা হারালে দুর্নীতির মামলাগুলোতে নেতানিয়াহুর আইনি ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে, যদিও তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।
এই প্রেক্ষাপটে জাতীয় নিরাপত্তা ও যুদ্ধকালীন নেতৃত্বের ইমেজ নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক টিকে থাকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে যেখানে ট্রাম্প সংঘাতের ইতি টানতে আগ্রহী, সেখানে নেতানিয়াহু তুলনামূলকভাবে কঠোর অবস্থান বজায় রাখতে চাইছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা কার্যকর হওয়ার পথে সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হতে পারে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের এই নীতিগত দূরত্ব। কারণ মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক রাজনীতিতে দুই দেশের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।