আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ক্রাইম ক্রনিকল


যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া কাঠামোগত চুক্তির ইতিবাচক প্রভাবে সপ্তাহের শুরুতেই বিশ্ব শেয়ারবাজারে দেখা গেছে শক্তিশালী উত্থান। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমার সম্ভাবনা এবং তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার আশায় বিনিয়োগকারীদের আস্থা বেড়েছে, যার প্রতিফলন মিলেছে ইউরোপ ও এশিয়ার প্রধান শেয়ারবাজারগুলোতে।

সোমবার লেনদেন শুরুর পর জার্মানির ড্যাক্স এবং ফ্রান্সের ক্যাক ৪০ সূচক প্রায় ১.৭ শতাংশ করে বৃদ্ধি পায়। অন্যদিকে যুক্তরাজ্যের প্রধান শেয়ার সূচক এফটিএসই ১০০ প্রায় ০.৬ শতাংশ ঊর্ধ্বমুখী ছিল।

তবে ইউরোপের অন্যান্য বাজারের তুলনায় লন্ডনের বাজারে উত্থান কিছুটা সীমিত ছিল। কারণ, তেলের দাম কমে যাওয়ার খবরে জ্বালানি খাতের বড় দুই প্রতিষ্ঠান বিপি ও শেল-এর শেয়ারের দাম প্রায় ৪ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়। এই দুটি কোম্পানি এফটিএসই ১০০ সূচকের অন্যতম বৃহৎ অংশ হওয়ায় সামগ্রিক বাজারের উত্থান কিছুটা কমে আসে।

এর আগে এশিয়ার বাজারগুলোতে আরও বড় ধরনের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। জাপানের নিক্কেই ২২৫ (Nikkei 225) সূচক দিনশেষে ৫ শতাংশ বৃদ্ধি নিয়ে বন্ধ হয়। বিশ্লেষকদের মতে, এশিয়ার অনেক দেশ মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও গ্যাস সরবরাহের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল হওয়ায় অঞ্চলটিতে উত্তেজনা কমার খবর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বাড়তি আশাবাদ তৈরি করেছে।

বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান হারগ্রিভস ল্যান্সডাউনের সিনিয়র ইকুইটি বিশ্লেষক ম্যাট ব্রিটজম্যান বলেন, বিশ্ব শেয়ারবাজার নতুন সপ্তাহ শুরু করেছে শক্ত অবস্থান থেকে। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান কাঠামোগত চুক্তি বিনিয়োগকারীদের ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা এবং মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফিরে আসার প্রত্যাশা বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করছে। ফলে ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদে বিনিয়োগের প্রবণতা আবারও বাড়তে শুরু করেছে।

বাজার পর্যবেক্ষকদের মতে, আগামী শুক্রবার চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হলে বৈশ্বিক অর্থবাজারে আরও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যেতে পারে। তবে বিনিয়োগকারীরা এখনো চুক্তির বাস্তবায়ন এবং আঞ্চলিক পরিস্থিতির দিকে সতর্ক নজর রাখছেন।