স্টাফ রিপোর্টার | ক্রাইম ক্রনিকল
কক্সবাজারের মহেশখালীতে অ্যাক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ড ও কারিগরি ত্রুটির ঘটনার চার দিন পার হলেও দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ জানাতে পারেনি পেট্রোবাংলা। একই সঙ্গে কবে নাগাদ টার্মিনালটি সচল হয়ে জাতীয় গ্রিডে পূর্ণমাত্রায় গ্যাস সরবরাহ পুনরায় শুরু হবে, সে বিষয়েও কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা দেয়নি সংস্থাটি।
শনিবার এক বিবৃতিতে পেট্রোবাংলা জানায়, টার্মিনালটি মেরামত ও পুনরায় চালুর লক্ষ্যে দেশি ও বিদেশি কারিগরি বিশেষজ্ঞরা একযোগে কাজ করছেন। কাজ যত দ্রুত সম্ভব শেষ করার চেষ্টা চলছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে বিবৃতিতে কারিগরি ত্রুটির প্রকৃতি, ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা কিংবা টার্মিনাল চালু হতে সম্ভাব্য সময় সম্পর্কে কোনো তথ্য উল্লেখ করা হয়নি। সংস্থাটি জানিয়েছে, নতুন কোনো অগ্রগতি হলে তা পরে জানানো হবে। একই সঙ্গে সাময়িক গ্যাস সংকটের কারণে ভোগান্তির জন্য গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে পেট্রোবাংলা।
এদিকে টানা চার দিন ধরে টার্মিনালটি বন্ধ থাকায় রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় আবাসিক গ্রাহক, শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র, সার কারখানা এবং সিএনজি স্টেশনগুলোতে গ্যাস সরবরাহে সংকট দেখা দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, টার্মিনালটি বন্ধ থাকায় জাতীয় গ্যাস গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমেছে। ফলে মোট সরবরাহ প্রায় ২ হাজার ৬২০ মিলিয়ন ঘনফুট থেকে নেমে এসেছে প্রায় ২ হাজার ১৭০ মিলিয়ন ঘনফুটে। অথচ দেশে প্রতিদিন গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট।
গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় বিভিন্ন এলাকায় সিএনজি স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ যানজট ও অপেক্ষার সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে বেগ পেতে হচ্ছে।
এর আগে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, স্থানীয় কারিগরি দল প্রাথমিকভাবে ত্রুটির উৎস শনাক্ত করতে না পারায় বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সহায়তা নেওয়া হয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, টার্মিনাল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাক্সিলারেট এনার্জি শুধু কারিগরি ত্রুটির বিষয়টি নিশ্চিত করলেও এর সুনির্দিষ্ট কারণ তখনও জানাতে পারেনি।
বর্তমানে বাংলাদেশে দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন প্রায় ৯৭০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়, যা দেশের মোট গ্যাস সরবরাহের প্রায় ৩৭ শতাংশ। ফলে একটি টার্মিনাল বন্ধ থাকায় জাতীয় জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য চাপ তৈরি হয়েছে।
পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, মেরামত কার্যক্রম শেষ হলেই টার্মিনালটি পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে কবে নাগাদ গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি প্রকাশ করা হয়নি।