আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ক্রাইম ক্রনিকল 

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া কাঠামোগত চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। তবে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন জোর দিয়ে বলেছেন, এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো চুক্তির দ্রুত ও পূর্ণ বাস্তবায়ন।

এক বিবৃতিতে ভন ডার লেয়েন বলেন, চুক্তির শর্ত অনুযায়ী হরমুজ প্রণালি অবিলম্বে পুনরায় উন্মুক্ত করা উচিত। তার মতে, আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের স্বাধীনতা শুধু আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, “সব পক্ষের উচিত দ্রুত ও সম্পূর্ণভাবে এই চুক্তি বাস্তবায়ন করা। হরমুজ প্রণালির অবিলম্বে পুনরায় উন্মুক্তকরণ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য অপরিহার্য।”

ইইউ কমিশন প্রধান আরও বলেন, এই কাঠামোগত চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও নিরাপত্তা নিয়ে আরও বিস্তৃত আলোচনার দ্বার খুলে দিতে পারে।

তবে একই সঙ্গে তিনি লেবাননের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ভন ডার লেয়েন বলেন, “লেবানন যখন এখনও সংঘাতের আগুনে জ্বলছে, তখন মধ্যপ্রাচ্যে প্রকৃত শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।” তিনি সব পক্ষকে লেবাননের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা সম্মান করার পাশাপাশি একটি কার্যকর যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।

এদিকে ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা চুক্তিটিকে ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, তিনি “ব্যয়বহুল এই যুদ্ধের অবসান” দেখতে চান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, এখন অস্ত্রের নীরব হওয়ার সময় এসেছে এবং বাকি মতপার্থক্যগুলো শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমাধান করতে হবে।


অন্যদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কালাস এই সমঝোতাকে “সম্ভাব্য যুগান্তকারী অগ্রগতি” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার মতে, চুক্তিটি আরও গভীর ও অর্থবহ আলোচনার জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ তৈরি করতে পারে।



ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কালাস (ছবি: শাটারস্টক)


ফ্রান্সে চলমান জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনেও এই চুক্তি অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয় হতে যাচ্ছে। ইউরোপীয় নেতারা সেখানে হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ, মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা, লেবাননের পরিস্থিতি এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবেন।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির সফল বাস্তবায়ন শুধু মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কমাবে না, বরং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।