·  যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ ১৫ অর্থনীতির পণ্যে ১০% এবং ভারত, চীন, অস্ট্রেলিয়াসহ ৪৫ অর্থনীতির পণ্যে ১২.৫% শুল্কের প্রস্তাব

• সুপ্রিম কোর্টে বাতিল হওয়া বৈশ্বিক শুল্ক কাঠামোর বিকল্প হিসেবে নতুন পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনের
• বস্ত্রসহ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পণ্যে শুল্ক ছাড়ের প্রস্তাব ইউএসটিআরের
• নতুন শুল্ক পরিকল্পনাকে ‘পুরোপুরি অযৌক্তিক’ বলছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক। ক্রাইম ক্রনিকল 

জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে বিশ্বের ৬০টি অর্থনীতির পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন এ পরিকল্পনায় কিছু দেশের পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ এবং অন্যদের ক্ষেত্রে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের সুপারিশ করা হয়েছে।



মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তর (ইউএসটিআর) জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট দেশগুলো জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের বাণিজ্য রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে। তাদের মতে, এ পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার ভারসাম্য নষ্ট করছে এবং মার্কিন শ্রমিক ও শিল্পখাতকে ক্ষতির মুখে ফেলছে।

প্রস্তাবিত তালিকায় বাংলাদেশ, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, কানাডা, মেক্সিকো, মালয়েশিয়া, পাকিস্তান, তাইওয়ান, কম্বোডিয়া, আর্জেন্টিনা, গুয়াতেমালা, এল সালভাদর, ইকুয়েডর ও ইন্দোনেশিয়াসহ ১৫টি অর্থনীতির পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের সুপারিশ করা হয়েছে। অন্যদিকে চীন, ভারত, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও অস্ট্রেলিয়াসহ আরও ৪৫টি অর্থনীতির পণ্যের ওপর ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।



এই উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য আইনের ধারা ৩০১-এর আওতায় পরিচালিত তদন্তের অংশ। গত ফেব্রুয়ারিতে আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন (আইইইপিএ) ব্যবহার করে আরোপিত কিছু শুল্ক মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট বাতিল করার পর ট্রাম্প প্রশাসন নতুন আইনি কাঠামোর মাধ্যমে বৈশ্বিক শুল্ক ব্যবস্থা পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে। বিশ্লেষকদের মতে, সর্বশেষ প্রস্তাব সেই প্রচেষ্টারই ধারাবাহিকতা।

মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার এক বিবৃতিতে বলেন, “জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের প্রবাহ রোধে প্রধান বাণিজ্য অংশীদারদের ব্যর্থতা গ্রহণযোগ্য নয়। এর ফলে মার্কিন শ্রমিকদের একটি অসম প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে কাজ করতে হচ্ছে।”

তবে কঠোর শুল্ক আরোপের পাশাপাশি কিছু গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়ার পরিকল্পনাও করেছে ইউএসটিআর। জ্বালানি, বিরল খনিজ, নির্দিষ্ট ধাতু, গরুর মাংস, কফি, কিছু ফল ও সবজি, ওষুধ, জৈব রাসায়নিক পদার্থ এবং বিমান শিল্পের যন্ত্রাংশকে সম্ভাব্য শুল্কমুক্ত রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

এ ছাড়া পোশাক ও বস্ত্র খাতের জন্য পৃথক আমদানি ব্যবস্থার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। এর আওতায় নির্দিষ্ট পরিমাণ পোশাক ও টেক্সটাইল পণ্য কম শুল্কে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ পেতে পারে। তবে এ সুবিধার বিস্তারিত শর্ত এখনো প্রকাশ করা হয়নি।



যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইতোমধ্যে সমালোচনার মুখে পড়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের আইনপ্রণেতারা তদন্তের ভিত্তিকে “পুরোপুরি অযৌক্তিক” বলে অভিহিত করেছেন। তাদের দাবি, জোরপূর্বক শ্রম প্রতিরোধে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিজস্ব কঠোর আইন ও নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে।

প্রস্তাবিত শুল্ক ব্যবস্থা নিয়ে আগামী ৬ জুলাই পর্যন্ত জনমত গ্রহণ করবে ইউএসটিআর। এরপর শুনানি ও পর্যালোচনার ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রস্তাব কার্যকর হলে বৈশ্বিক বাণিজ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হওয়ার পাশাপাশি রপ্তানিনির্ভর অর্থনীতিগুলোর ওপরও চাপ বাড়তে পারে।

সূত্র: রয়টার্স