আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ক্রাইম ক্রনিকল
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘ইসরায়েল আমার কথামতো চলে’ মন্তব্যের জবাবে সরাসরি ভিন্ন অবস্থান তুলে ধরেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি বলেছেন, ইসরায়েল কোনো দেশের নির্দেশে পরিচালিত হয় না; বরং নিজেদের জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তার ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেয়।
জেরুজালেম নিউজ সিন্ডিকেটের আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে নেতানিয়াহু বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে অনেকে মনে করেন ট্রাম্প তার সব কথা শোনেন, আবার ইসরায়েলে কেউ কেউ বিশ্বাস করেন তিনি ট্রাম্পের ইচ্ছা অনুযায়ী চলেন। বাস্তবে এই দুই ধারণার কোনোটিই সত্য নয়।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল উভয়ই স্বাধীন ও গর্বিত রাষ্ট্র। দুই দেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকলেও প্রত্যেক দেশ নিজেদের জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেয়। অনেক বিষয়ে মতের মিল থাকলেও কিছু ক্ষেত্রে ভিন্নমতও রয়েছে।
নেতানিয়াহু আরও বলেন, তিনি ইসরায়েলের নিরাপত্তা ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষার দায়িত্ব পালন করছেন। একইভাবে ট্রাম্পও যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করেন। দুই দেশের নেতৃত্ব একে অপরের সার্বভৌমত্ব, জনগণ এবং রাজনৈতিক সিদ্ধান্তকে সম্মান করে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এর আগে শুক্রবার এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, ইসরায়েলের ওপর তার যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে। লেবাননে নতুন করে হামলা ঠেকাতে পারবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ইসরায়েল তাকে অনেক সম্মান করে এবং তার কথামতোই চলে।
ট্রাম্প আরও বলেন, নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার সম্পর্ক অত্যন্ত ভালো। তবে মাঝে মাঝে তাকে কিছুটা সংযত রাখার প্রয়োজন হয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, তার সমর্থন ছাড়া ইসরায়েলের টিকে থাকা কঠিন হতো।
এদিকে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক নীতিগত অবস্থান নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের মধ্যে কিছুটা অস্বস্তির ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। এ প্রসঙ্গে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইসরায়েলি মন্ত্রিসভার কয়েকজন সদস্যের সমালোচনা করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করা কোনো মিত্র দেশের জন্য ইতিবাচক বার্তা নয়।
তিনি বলেন, বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী মিত্রকে প্রকাশ্যে আক্রমণ করা বিচক্ষণতার পরিচয় নয়। ট্রাম্পের মন্তব্যের পর নেতানিয়াহুর এই প্রতিক্রিয়া দুই দেশের সম্পর্ক ও পারস্পরিক প্রভাব নিয়ে চলমান আলোচনাকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।