আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ক্রাইম ক্রনিকল


মালয়েশিয়ায় কোনো ইসরায়েলি নাগরিকের উপস্থিতি নিশ্চিত হলে তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়ে দেশ থেকে বহিষ্কার করা হবে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিম। তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, ইসরায়েলকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়ার নীতিতে মালয়েশিয়া অটল রয়েছে এবং এ অবস্থান থেকে সরে আসার কোনো সুযোগ নেই।


বুধবার (১৫ জুলাই) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, ইসরায়েলি নাগরিকরা মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করেছেন—এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা সংস্থাগুলো তদন্ত শুরু করেছে।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, তদন্তে যদি ইসরায়েলি নাগরিকের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়, তাহলে প্রচলিত নীতিমালা অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং দেশ থেকে বহিষ্কার করা হবে। তিনি জানান, তদন্ত শেষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় তথ্য জনসম্মুখে প্রকাশ করবে।


এর আগে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করা হয়, দ্বিতীয় কোনো দেশের পাসপোর্ট ব্যবহার করে কয়েকজন ইসরায়েলি নাগরিক মালয়েশিয়ার জোহর রাজ্যে প্রবেশ করেছেন। অভিযোগে বলা হয়, তারা বিকল্প নাগরিকত্বের ভ্রমণ নথি ব্যবহার করে দেশটিতে প্রবেশ বা অবস্থানের চেষ্টা করেছেন।


এ অভিযোগের পর জোহর রাজ্য সরকার ফরেস্ট সিটিতে পরিচালিত প্রযুক্তিনির্ভর আবাসিক কমিউনিটি ‘নেটওয়ার্ক স্কুল’-এর কার্যক্রম তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির একটি কর্মসূচির সঙ্গে ইসরায়েলি নাগরিকদের সম্পৃক্ততা থাকতে পারে।


জোহরের মুখ্যমন্ত্রী দাতুক ওন হাফিজ গাজি বলেন, দ্বিতীয় দেশের পাসপোর্ট ব্যবহার করে কিছু ব্যক্তি মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি জনমনে উদ্বেগ তৈরি করেছে এবং পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রয়োজন।


এরই মধ্যে মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগ ফরেস্ট সিটিতে অভিযান চালিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সেখানে বর্তমানে ৪০টি দেশের মোট ২৬৬ জন বিদেশি নাগরিক বসবাস করছেন।


অভিবাসন বিভাগের মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবান এক বিবৃতিতে জানান, প্রাথমিক যাচাইয়ে সেখানে অবস্থানরত বিদেশিদের সবার কাছেই বৈধ অভিবাসন-সংক্রান্ত কাগজপত্র পাওয়া গেছে। তবে তারা অভিবাসন আইন, প্রবেশের শর্ত এবং অন্যান্য বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করেছেন কি না, তা বিস্তারিতভাবে যাচাই করা হচ্ছে।


তিনি আরও বলেন, পরিচয় গোপন, ভ্রমণ নথিতে জালিয়াতি, অভিবাসন সুবিধার অপব্যবহার কিংবা আইনের শর্ত লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে অভিবাসন বিভাগ। দেশটির কর্তৃপক্ষ বলছে, জাতীয় নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব ও অভিবাসন নীতির প্রশ্নে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।