স্টাফ রিপোর্টার। ক্রাইম ক্রনিকল 


অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আমন্ত্রণে যুক্তরাজ্যে গিয়ে বক্তব্য দেওয়ার দাবি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) প্রতিনিধিদের কয়েকজন সদস্য। এ বিষয়ে অনুসন্ধান করে ফ্যাক্ট-চেকিং প্রতিষ্ঠান রিউমার স্ক্যানার জানিয়েছে, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আমন্ত্রণে নয়, বরং অক্সফোর্ড ইউনিয়নের একটি আলোচনায় অংশ নিতে আমন্ত্রিত হয়েছিলেন তারা।




সম্প্রতি ডাকসুর প্রতিনিধি সাদিক কায়েম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে অক্সফোর্ড ইউনিয়নের একটি অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি লেখেন, জীবনে কখনো কল্পনা করেননি যে একদিন তিনি সেই মঞ্চে দাঁড়িয়ে বক্তব্য দেবেন, যেখানে আগে মেহদি হাসান, শশী থারুর ও থেরেসা মে–এর মতো ব্যক্তিত্বরা বক্তৃতা দিয়েছেন। একই পোস্টে তিনি বাংলাদেশ, ডাকসু এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনার প্রতিনিধিত্ব করার কথাও উল্লেখ করেন।


এর আগে একটি ভিডিও বক্তব্যে সাদিক কায়েম বলেন, “আজকের দিনটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আজকে আমাদের সবচেয়ে বড় ইভেন্ট অক্সফোর্ডে। অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির আমন্ত্রণে আমি এখানে এসেছি।”


তবে এই বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন ব্যবহারকারী ও সমালোচকরা। তাঁদের দাবি, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় এবং অক্সফোর্ড ইউনিয়নকে এক করে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে, যা বিভ্রান্তিকর।


রিউমার স্ক্যানারের যাচাই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাদিক কায়েম ও হাসনাত আবদুল্লাহ মূলত ‘বাংলাদেশের জুলাই গণঅভ্যুত্থান’ বিষয়ক একটি প্যানেল আলোচনায় বক্তব্য দেওয়ার জন্য আমন্ত্রিত হয়েছিলেন। অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে অক্সফোর্ড ইউনিয়ন।


বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন বিতর্ক সংগঠন হিসেবে পরিচিত অক্সফোর্ড ইউনিয়ন দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন দেশের রাজনীতিবিদ, কূটনীতিক, লেখক ও জনবুদ্ধিজীবীদের আমন্ত্রণ জানিয়ে আলোচনা ও বিতর্কের আয়োজন করে থাকে। তবে সংগঠনটি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক বা একাডেমিক কাঠামোর অংশ নয়।


তথ্য অনুযায়ী, অক্সফোর্ড ইউনিয়ন একটি স্বাধীন বিতর্ক ও আলোচনা ক্লাব। এটি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দ্বারা পরিচালিত হলেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অধীনে পরিচালিত হয় না। অন্যদিকে, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের আনুষ্ঠানিক প্রতিনিধিত্বকারী প্রতিষ্ঠান হলো অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্ট ইউনিয়ন, যা সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি সংগঠন।


বিশ্লেষকেরা বলছেন, অক্সফোর্ড ইউনিয়নে বক্তব্য দেওয়া নিঃসন্দেহে একটি উল্লেখযোগ্য বিষয়। কারণ বিশ্বের বহু খ্যাতনামা ব্যক্তি এই মঞ্চে বক্তব্য দিয়েছেন। তবে এটিকে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো একাডেমিক কর্মসূচি হিসেবে উপস্থাপন করলে বাস্তবতার সঙ্গে তার পার্থক্য তৈরি হয়।


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে বিতর্কের মধ্যে এখন পর্যন্ত সাদিক কায়েম বা সংশ্লিষ্ট অন্য কোনো পক্ষ রিউমার স্ক্যানারের অনুসন্ধান নিয়ে আলাদা কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি।


বিতর্কের কেন্দ্রে থাকা প্রশ্নটি হলো—অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আমন্ত্রণে বক্তব্য দেওয়া এবং অক্সফোর্ড ইউনিয়নের আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া এক বিষয় নয়। ফ্যাক্ট-চেকিং প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, আলোচ্য অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ ছিল অক্সফোর্ড ইউনিয়নের আমন্ত্রণে, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণে নয়।