স্টাফ রিপোর্টার | ক্রাইম ক্রনিকল 


পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে মৃত ব্যক্তিদের নামে সরকারি ভাতা উত্তোলনের অনিয়ম বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাউছার হামিদ। তাঁর নেতৃত্বে পরিচালিত যাচাই-বাছাই কার্যক্রমে ৯২৩ জন মৃত ব্যক্তির নামে বয়স্কভাতা এবং ২৬৪ জন মৃত নারীর নামে বিধবা ভাতা উত্তোলনের তথ্য শনাক্ত হয়েছে।


উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর উপকারভোগীদের তালিকায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে গত কয়েক মাস ধরে ইউনিয়নভিত্তিক তথ্য যাচাই করা হয়। এ সময় দেখা যায়, তালিকাভুক্ত অনেক উপকারভোগী সাত থেকে আট বছর আগেই মারা গেলেও তাদের নামে নিয়মিত ভাতা উত্তোলন করা হচ্ছে। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে স্বামী জীবিত থাকা নারীদের নামেও বিধবা ভাতা গ্রহণের তথ্য পাওয়া গেছে।



ইউএনও কাউছার হামিদের ফেসবুক ওয়াল থেকে নেওয়া


তিনি জানান, মৃত ৯২৩ জন বয়স্কভাতা গ্রহীতার নামে প্রতি মাসে ৫ লাখ ৫৩ হাজার ৮০০ টাকা সরকারি অর্থ উত্তোলন হচ্ছিল। বছরে যার পরিমাণ দাঁড়ায় ৬৬ লাখ ৪৫ হাজার ৬০০ টাকা। একইভাবে ২৬৪ জন মৃত ব্যক্তির নামেও বিধবা ভাতা দেওয়া হচ্ছিল।


তিনি বলেন, এসব অনিয়ম চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্টদের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে এবং তাদের ভাতা বন্ধের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে প্রকৃত সুবিধাবঞ্চিত প্রবীণ ও বিধবা নারীদের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


যাচাইয়ে চাকামইয়া, টিয়াখালী, লালুয়া, মিঠাগঞ্জ, নীলগঞ্জ, মহিপুর, লতাচাপলী, ধানখালী, ধুলাসার, বালিয়াতলী, ডালবুগঞ্জ ও চম্পাপুর ইউনিয়নে মৃত ভাতাভোগীদের তথ্য পাওয়া গেছে। প্রশাসনের ধারণা, পরিবার-পরিজনেরা মৃত ব্যক্তিদের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর চালু রেখে ভাতার টাকা উত্তোলন করে আসছিলেন।


উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম জানান, মৃত ব্যক্তিদের নাম বাদ দিয়ে তালিকা হালনাগাদের কাজ চলছে। পাশাপাশি নতুন যোগ্য উপকারভোগীদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে।


ইউএনওর এ উদ্যোগে দীর্ঘদিনের অনিয়ম বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি সরকারি অর্থ সাশ্রয় এবং প্রকৃত উপকারভোগীদের অধিকার নিশ্চিত হওয়ার পথ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।