নিজস্ব প্রতিবেদক | ক্রাইম ক্রনিকল 


দেশের উচ্চশিক্ষার বৃহত্তম প্রতিষ্ঠান জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিশ্ববাজারের উপযোগী করে গড়ে তুলতে এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্যে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এখন থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নিয়মিত পড়াশোনার পাশাপাশি বাংলা ও ইংরেজির বাইরে আরও সাতটি গুরুত্বপূর্ণ বিদেশি ভাষা শেখার সুযোগ পাবেন। গত রবিবার রাজধানীর বাংলাদেশ চায়না ফ্রেন্ডশিপ কনফারেন্স সেন্টারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ এই বিশেষ উদ্যোগের কথা ঘোষণা করেন।


প্রাথমিক পর্যায়ে ম্যান্ডারিন (চীনা), জাপানিজ, কোরিয়ান, আরবি, ইতালিয়ান, স্প্যানিশ এবং ফ্রেঞ্চ এই সাতটি ভাষা অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। উপাচার্য জানান, ভাষাগত দক্ষতার অভাবে গ্র্যাজুয়েটরা যাতে পিছিয়ে না পড়ে, সেজন্যই এই আন্তর্জাতিক মানের কোর্সগুলো চালু করা হচ্ছে। কেবল ভাষা শিক্ষাই নয়, শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে কাজের অভিজ্ঞতা ও ইন্টার্নশিপ নিশ্চিত করতে বিশ্বের ১৫০টিরও বেশি স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সাথে এরই মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব নিউ হ্যাভেন এবং যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব সলফোর্ডের মতো প্রতিষ্ঠানও রয়েছে।


উপাচার্য আরও উল্লেখ করেন যে, এই উদ্যোগের পাশাপাশি একটি বিশেষ ‘অ্যাপ্রেন্টিসশিপ প্রোগ্রাম’ চালু করা হচ্ছে, যার মাধ্যমে প্রতি বছর অন্তত ২৫ থেকে ৫০ হাজার শিক্ষার্থীকে বিশেষ দক্ষতায় প্রশিক্ষিত করা হবে। শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা কেবল দেশে নয়, বিদেশের উচ্চ আয়ের শ্রমবাজারেও নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে পারবেন। অনুষ্ঠানটিতে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনসহ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।