ঢাবি প্রতিনিধি, ক্রাইম ক্রনিকল 


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হলে একসঙ্গে বহু আবাসিক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনায় উদ্বেগ ছড়িয়েছে শিক্ষার্থীদের মধ্যে। বমি, পেটব্যথাসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার পর শিক্ষার্থীরা হলের খাবার পানি ও ক্যান্টিনের খাবারের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।


আবাসিক শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই হলের পানির মান ও ক্যান্টিনের স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, হলের ক্যান্টিন সংলগ্ন বড় পানির ফিল্টারের মুখে প্রায়ই বানরকে পানি পান করতে দেখা যেত। এ কারণে অনেকেই বিকল্প ফিল্টারের পানি ব্যবহার করতেন।


অসুস্থ শিক্ষার্থীদের একাংশ বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে গেলেও পর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবা পাননি বলে অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষার্থীদের দাবি, মেডিকেলে প্রয়োজনীয় ওষুধ না থাকায় বাইরে থেকে ওষুধ কিনে আনতে হয়েছে।


এদিকে, পানির নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট প্রকাশ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রাথমিকভাবে সংগ্রহ করা নমুনার রিপোর্ট প্রকাশে বিলম্ব করা হয়েছে এবং নতুন করে নমুনা সংগ্রহের প্রস্তুতি চলছে। তাদের দাবি, শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হওয়ার পর ফিল্টারে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া ও ফিল্টার আপগ্রেডের কাজ করা হয়েছে।


কিছু শিক্ষার্থী আরও অভিযোগ করেন, খাবার পানির সমস্যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেওয়ার পর তা সরিয়ে ফেলতে চাপ দেওয়া হয়। এছাড়া অনলাইন সংবাদমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশের ক্ষেত্রেও বাধার অভিযোগ তুলেছেন তারা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে হল প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


হলের ক্যান্টিন পরিচালনা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের অভিযোগ, নতুন ক্যান্টিন মালিক পূর্বে অন্য একটি হল থেকে বহিষ্কৃত ছিলেন। ক্যান্টিনের খাবারের মান ও সংরক্ষণ ব্যবস্থার বিষয়ে আগেও শিক্ষার্থীদের মধ্যে আলোচনা হয়েছিল বলে জানা গেছে।

শিক্ষার্থীরা দ্রুত পানি ও খাবারের মান পরীক্ষা করে স্বচ্ছ তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ, অসুস্থ শিক্ষার্থীদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।


এ বিষয়ে ডাকসুর স্বাস্থ্য ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদকসহ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন আবাসিক শিক্ষার্থীরা।