ক্রাইম ক্রনিকল প্রতিবেদক, ঢাকা
সড়ক বাতির বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী প্রযুক্তি সরেজমিনে দেখতে ফ্রান্সে যেতে চেয়েছিলেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান। কিন্তু সেই প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সরাসরি নাকচ হয়ে গেছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রশাসক প্রকৌশলী নন, তাই তাঁর এই সফরে যাওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই।
জানা গেছে, বেসরকারি আলোক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান সিগনিফাই বাংলাদেশ লিমিটেডের আমন্ত্রণে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান এবং নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) এ বি এম আসাদুজ্জামান সুইট ফ্রান্সের 'সিগনিফাই আউটডোর লাইটিং অ্যাপ্লিকেশন সেন্টার' পরিদর্শন ও আধুনিক বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী স্ট্রিট লাইটিং প্রযুক্তি শিখতে ১১ দিনের সফরে যেতে চেয়েছিলেন। গত ১২ মে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব বরাবর আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়ে সফরের অনুমোদন ও অনাপত্তিপত্র চাওয়া হয়। এরপর মন্ত্রণালয় থেকে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় বলা হয়, "এ বিষয়ে কোনো প্রকৌশলী জ্ঞান আহরণ করলে তা রাজশাহী সিটি করপোরেশনের কাজে লাগবে। রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক প্রকৌশলী নয়, বিধায় তার যাওয়া কোনো গুরুত্ব বহন করে না। এ সফরে শুধু প্রস্তাবিত নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) প্রয়োজনে যেতে পারেন।" নির্দেশনায় আরও বলা হয়, ভবিষ্যতে এ ধরনের উদ্ভাবনী কাজে বুয়েট ও অন্যান্য প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতা নেওয়া উচিত। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পরপরই স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এ জাতীয় সকল বিদেশ সফর আপাতত স্থগিত করার নির্দেশ দেয়। রাজশাহী সিটি করপোরেশন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সফর স্থগিতের বিষয়টি নিশ্চিত করে এবং জানায়, সফরের সমস্ত ব্যয় সিগনিফাই বাংলাদেশ লিমিটেড বহন করতে রাজি ছিল।
এর কিছুদিন আগেই চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন মেয়র মশা নিধনের জৈব রাসায়নিক প্রযুক্তির ব্যবহার পদ্ধতি শিখতে যুক্তরাষ্ট্রে যেতে চেয়েছিলেন সে প্রস্তাবও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় প্রত্যাখ্যান করে। ধারাবাহিকভাবে দুটি প্রস্তাব নাকচ হওয়ায় সুশাসন বিশ্লেষকরা বলছেন, স্থানীয় সরকার পর্যায়ে সুশাসন ও জবাবদিহিতার বিএনপি সরকারের নীতি স্পষ্ট হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নে সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের বিষয়টিও গভীর প্রশ্নের জন্ম দেয়। যে কোম্পানি সিটি করপোরেশনে পণ্য ও সেবা সরবরাহ করে, সেই কোম্পানির আমন্ত্রণে কর্মকর্তারা বিদেশ সফরে গেলে স্বার্থের দ্বন্দ্ব তৈরির আশঙ্কা থাকে, এমনকি সরকারি কোষাগার থেকে অর্থ না গেলেও।
প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত প্রশাসক মাহফুজুর রহমান বা সিগনিফাই বাংলাদেশ লিমিটেড কেউই প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেননি।