আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ক্রাইম ক্রনিকল


যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ঘোষিত কাঠামোগত সমঝোতা মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। তবে চুক্তির অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখনও অস্পষ্ট রয়ে গেছে। লেবানন থেকে হরমুজ প্রণালি, পারমাণবিক কর্মসূচি থেকে নিষেধাজ্ঞা— বিভিন্ন ইস্যুতে কী নিশ্চিত হয়েছে এবং কী এখনো অজানা, তা নিয়ে বাড়ছে আলোচনা।

লেবানন: যুদ্ধ থামবে, নাকি সংঘাত চলবে?

চুক্তির মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করা পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সব ফ্রন্টে, লেবাননসহ, সামরিক অভিযান অবিলম্বে ও স্থায়ীভাবে বন্ধ করার বিষয়ে সম্মত হয়েছে।

তবে বাস্তবে এই ঘোষণা কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। কারণ এখনো স্পষ্ট নয়, ইসরায়েল এবং ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ এই সমঝোতা মেনে চলবে কি না।

ইতোমধ্যে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ ঘোষণা দিয়েছেন, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) অনির্দিষ্টকালের জন্য লেবাননে অবস্থান করবে। অন্যদিকে ইরান লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক কর্মকাণ্ড সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করার দাবি জানিয়েছে।

হরমুজ প্রণালি: খুলবে, কিন্তু কবে?

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত হবে এবং অঞ্চল ও বিশ্বের জন্য আবারও স্বাভাবিকভাবে তেল পরিবহন শুরু হবে।

এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দাবি, সমঝোতা স্মারকের একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো আগামী ৩০ দিনের মধ্যে ইরানি বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করা।

তবে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর নির্দিষ্ট সময়সূচি এখনো প্রকাশ করা হয়নি। ভবিষ্যতে প্রণালিতে নৌ চলাচল কীভাবে পরিচালিত হবে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা কী হবে, সেটিও পরিষ্কার নয়।

পারমাণবিক কর্মসূচি: অস্ত্র নয়, কিন্তু সমৃদ্ধকরণ নিয়ে প্রশ্ন

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, তেহরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

একই সঙ্গে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে পারমাণবিক উপাদান ধ্বংস ও অপসারণের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি বিস্তারিত পরিকল্পনা চূড়ান্ত করার কথা বলা হয়েছে।

তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলোর উত্তর এখনো মেলেনি। ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাত্রা কতটা সীমিত করা হবে, কিংবা বর্তমানে তাদের কাছে থাকা উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুতের ভবিষ্যৎ কী হবে— সে বিষয়ে কোনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

নিষেধাজ্ঞা: স্বস্তির ইঙ্গিত, কিন্তু সময়সূচি অজানা

চুক্তির অংশ হিসেবে ইরানের ওপর আরোপিত কিছু অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জব্দ থাকা ইরানি সম্পদের একটি অংশ মুক্ত করার বিষয়েও আলোচনা চলছে।

তবে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার কবে থেকে শুরু হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। চূড়ান্ত চুক্তির আগে নাকি পরে এই প্রক্রিয়া শুরু হবে, সে বিষয়েও কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।

সামনে কী?

বিশ্লেষকদের মতে, ঘোষিত সমঝোতা মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হলেও এটি এখনো একটি কাঠামোগত চুক্তি মাত্র। হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ, লেবাননের পরিস্থিতি, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা– এসব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে এই সমঝোতা সত্যিই অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি আনতে পারে কি না।