স্টাফ রিপোর্টার | ক্রাইম ক্রনিকল
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের বিখ্যাত দেশাত্মবোধক গান ‘কাণ্ডারী হুঁশিয়ার’-এর শতবর্ষ উপলক্ষে দেশজুড়ে সাংস্কৃতিক আয়োজন, আলোচনা সভা, সমাবেশ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানিয়েছে দেশের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন। সংগঠনগুলোর মতে, সাম্প্রদায়িকতা, বিদ্বেষ ও অসহিষ্ণুতার বিরুদ্ধে নজরুলের এই গান বর্তমান সময়েও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে।
বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে এ আহ্বান জানায় বাংলাদেশ গণসঙ্গীত সমন্বয় পরিষদ। বিবৃতিতে বলা হয়, জাতীয় কবির জন্মজয়ন্তী উদ্যাপনের প্রেক্ষাপটে তাঁর মানবতাবাদী ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার গুরুত্ব নতুন করে স্মরণ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে চলতি বছরে ‘দুর্গম গিরি, কান্তার-মরু, দুস্তর পারাবার’—প্রথম পঙ্ক্তি দিয়ে পরিচিত ‘কাণ্ডারী হুঁশিয়ার’ গানের শতবর্ষ পূর্তির বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, ১৯২৬ সালে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার পটভূমিতে কাজী নজরুল ইসলাম গানটি রচনা ও সুরারোপ করেন। ওই বছরের ২২ মে কৃষ্ণনগরে অনুষ্ঠিত প্রাদেশিক সম্মিলনীতে তিনি প্রথম গানটি পরিবেশন করেন। পরবর্তীতে ‘বঙ্গবাণী’ পত্রিকায় ‘কাণ্ডারী হুঁশিয়ার’ শিরোনামে গানটি প্রকাশিত হয় এবং একই বছরের সেপ্টেম্বরে ‘কালি ও কলম’ পত্রিকায় এর স্বরলিপি ছাপা হয়। এছাড়া জুন মাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মুসলিম সাহিত্য সমাজের বার্ষিক অধিবেশনেও নজরুল গানটি পরিবেশন করেছিলেন বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিবৃতিদাতারা বলেন, ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে বিভাজন, বিদ্বেষ ও সহিংসতার প্রবণতার বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরিতে ‘কাণ্ডারী হুঁশিয়ার’ এখনো তাৎপর্যপূর্ণ। পাশাপাশি একই বছরে রচিত নজরুলের প্রবন্ধ ‘মন্দির ও মসজিদ’-এ ধর্মীয় সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের যে আহ্বান জানানো হয়েছিল, সেটিও বর্তমান প্রেক্ষাপটে প্রাসঙ্গিক বলে তারা মন্তব্য করেন।
যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী সংগঠনগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ নজরুলসংগীত সংস্থা, জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন পরিষদ, বাংলাদেশ গণসংগীত সমন্বয় পরিষদ, জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী সংস্থা, বাংলাদেশ সঙ্গীত সংগঠন সমন্বয় পরিষদ, বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদ, জাতীয় শিক্ষা ও সংস্কৃতি রক্ষা আন্দোলন, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী, সমগীত, সুর সপ্তক, নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট, আনন্দধারা, বসন্তবাহার সঙ্গীত একাডেমি এবং কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসর।