নিজস্ব প্রতিবেদক। ক্রাইম ক্রনিকল 

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগের নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সিনিয়র সহ-সভাপতি ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী দীর্ঘ এক বছরের বেশি সময় কারাবন্দি থাকার পর সব মামলায় জামিন পেয়ে মুক্তি পেয়েছেন। বুধবার (৩ জুন) রাত সোয়া ১০টার দিকে কাশিমপুর কারাগার থেকে তিনি ছাড়া পান। এরপর রাত সাড়ে ১২টার দিকে নিজ শহর নারায়ণগঞ্জের দেওভোগ এলাকার নিজ বাসভবন ‘চুনকা কুটিরে’ পৌঁছান।


আইভীর বাড়ি ফেরাকে ঘিরে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বাড়তি সদস্য মোতায়েন করা হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে বাড়ির আশপাশে বিশেষ নজরদারির ব্যবস্থা নেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী জানান, আইভীর বিরুদ্ধে থাকা ১২টি মামলায় উচ্চ আদালতের দেওয়া জামিন বহাল থাকার পর প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। জামিনে মুক্তি পেয়ে আইভীর বাড়ি ফেরার খবরে চুনকা কুটিরের সামনে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ছুটে আসেন।


উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের মে মাসে গ্রেপ্তার হওয়ার পর হত্যা ও হত্যাচেষ্টাসহ বিভিন্ন মামলায় কারাবন্দি ছিলেন সাবেক এই মেয়র। পরে ধাপে ধাপে বিভিন্ন মামলায় জামিন পান তিনি। সর্বশেষ অবশিষ্ট আইনি জটিলতাও নিষ্পত্তি হওয়ায় কারামুক্ত হন আইভী।মুক্তি পাওয়ার পর সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় সেলিনা হায়াৎ আইভী বিচার বিভাগ ও সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একইসঙ্গে তিনি বলেন, ‘অনেক কারাবন্দি মায়েরা আছে আমার মতো নিরপরাধ, আশা করি সরকার তাদের প্রতি সদয় হবেন।’


২০০৩ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার মেয়র ছিলেন সেলিনা হায়াৎ আইভী। পরে নবগঠিত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের টানা তিনটি নির্বাচনে জয়ী হন তিনি। নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন তিনি।