আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ক্রাইম ক্রনিকল
বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ নানা ইস্যু নিয়ে ফ্রান্সের মনোরম লেকসাইড রিসোর্ট শহর এভিয়ান-লে-বাঁয়ে শুরু হয়েছে জি-৭ শীর্ষ সম্মেলন। সোমবার থেকে শুরু হওয়া তিন দিনের এই বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন বিশ্বের সাতটি শীর্ষ শিল্পোন্নত দেশের নেতারা।
সম্মেলনের অন্যতম আলোচ্য বিষয় হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া নতুন কাঠামোগত চুক্তি। যদিও চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা আগামী শুক্রবার, তবুও জি-৭ নেতারা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে চুক্তির বিভিন্ন দিক সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাইতে পারেন। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির দীর্ঘমেয়াদি পুনরায় উন্মুক্তকরণ নিয়ে গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতার সম্ভাব্য প্রভাব, লেবাননের প্রতি আন্তর্জাতিক সমর্থন, হরমুজ প্রণালির স্থায়ীভাবে উন্মুক্ত রাখা এবং ইরানের পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক কর্মসূচি নিয়ে একটি চূড়ান্ত সমঝোতার বিষয়ও নেতাদের আলোচনায় স্থান পাবে।
ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় ম্যাক্রোঁ বলেন, “এই চুক্তির ফলাফল, লেবাননের জন্য সমর্থন, হরমুজের দীর্ঘমেয়াদি পুনরায় উন্মুক্তকরণ এবং অবশ্যই ইরানের পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক কার্যক্রম নিয়ে একটি সমঝোতা—এসব বিষয় আমাদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে।”
জি-৭ জোটে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি ও জাপান। এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিরাও সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন, যদিও ইইউ জোটের মূল সাত সদস্যের অন্তর্ভুক্ত নয়, কারণ এটি একটি আঞ্চলিক জোট, একক রাষ্ট্র নয়।
এবারের সম্মেলনে রাশিয়ার বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে ইউক্রেনকে সমর্থন, বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিকাশ এবং আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা হবে।
ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলনে জি-৭ সদস্যদের পাশাপাশি ভারত ও ব্রাজিলসহ আরও কয়েকটি দেশের প্রতিনিধিরাও অংশ নিচ্ছেন, যা বৈশ্বিক বিভিন্ন সংকট ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতার গুরুত্বকে আরও জোরালো করে তুলেছে।