নিজস্ব প্রতিবেদক | ক্রাইম ক্রনিকল


শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রশ্নকে আপাতত পাশ কাটিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিশ্চিত করার দিকেই মনোযোগ দিচ্ছে নয়াদিল্লি। কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে এমন তথ্য জানিয়েছে দেশের একাধিক সংবাদমাধ্যম।


সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রত্যর্পণ নিয়ে তৈরি অস্বস্তিকে দুই দেশের সামগ্রিক সম্পর্কের পথে প্রধান বাধা হিসেবে রাখতে চাইছে না ভারত। বরং বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে সম্পর্ককে নতুন বাস্তবতায় এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরির চেষ্টা চলছে।


সেই কারণেই তারেক রহমানের সম্ভাব্য সফরকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।


উপহারের ইঙ্গিত

কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, তারেক রহমান আমন্ত্রণ গ্রহণ করলে নয়াদিল্লিতে তাঁকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে স্বাগত জানানোর সম্ভাবনা রয়েছে।


এমনকি ঢাকাকে একটি ‘অভাবনীয়’ কূটনৈতিক উপহার দেওয়ার ইঙ্গিতও দেওয়া হয়েছে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।


তবে সেই উপহার ঠিক কী হতে পারে, সে বিষয়ে কোনো পক্ষ থেকেই স্পষ্ট কিছু বলা হয়নি। দুই দেশের কোনো সরকারি সূত্রও বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।


সূত্রগুলো বলছে, দিল্লির এই বার্তায় সৌজন্যের পাশাপাশি এক ধরনের কূটনৈতিক চাপও রয়েছে।


ব্রিকসে যাচ্ছেন না প্রধানমন্ত্রী

এদিকে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অংশ নিচ্ছেন না বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।


আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ওই সম্মেলনে বিমসটেকের চেয়ারপারসন হিসেবে তাঁকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।


তবে আলোচনা এখন ঘুরছে আলাদা একটি দ্বিপক্ষীয় সফরকে ঘিরে। কূটনৈতিক সূত্রের ইঙ্গিত অনুযায়ী, চলতি মাসের তৃতীয় সপ্তাহে দিল্লি সফরের সম্ভাবনা নিয়ে দুই পক্ষে তৎপরতা চলছে।


সফরের দিনক্ষণ ও গুরুত্ব নিয়ে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে।


হাইকমিশনারের দিল্লি সফর

ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী সম্প্রতি দিল্লি গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে ঢাকার বার্তা তুলে ধরেছেন।


কূটনৈতিক সূত্রের ভাষ্য, গত সপ্তাহে ঢাকায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকগুলোতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দেওয়া বার্তাগুলোই তিনি দিল্লিতে পৌঁছে দেন।


জানা গেছে, গত সোমবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রথম সৌজন্য সাক্ষাতে দিল্লি সফরের প্রসঙ্গটিও তোলেন হাইকমিশনার। তিনি জানান, ভারত সরকার তারেক রহমানকে সপরিবার দিল্লি সফরে অভ্যর্থনা জানাতে আগ্রহী।

ঢাকায় ফিরে তিনি সরকারের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলবেন বলে জানা গেছে।


যে প্রেক্ষাপটে এই তৎপরতা

সফর ঘিরে এই তৎপরতা এমন সময়ে, যখন দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন স্পষ্ট।


চলতি মাসের শুরুতে দিল্লিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রথমবারের মতো অনলাইনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ দেওয়ায় ঢাকা আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়েছিল।


ওই ঘটনার পর জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, প্রত্যর্পণ প্রশ্নের সমাধান না করে ভারতের সঙ্গে স্বাভাবিক কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার কোনো উদ্যোগ জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না।


সরকারের অবস্থানও এখনো চূড়ান্ত নয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে এখনো কোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়নি।


সাবেক রাষ্ট্রদূত মাহফুজুর রহমানের মতামত হলো, কেবল সম্মেলনে অংশগ্রহণ নয়; ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হলে তবেই সফরে যাওয়া উচিত প্রধানমন্ত্রীর।


তথ্যসূত্র: কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়