অর্থনীতি ডেস্ক | ক্রাইম ক্রনিকল


চাকরি বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) ১৭ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।

 

একই ঘটনায় আরও পাঁচ কর্মকর্তার বেতন সর্বনিম্ন স্তরে নামিয়ে আনা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করে বিএসইসি।

 

বিএসইসি প্রতিষ্ঠার পর একসঙ্গে এত কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর ঘটনা এটিই প্রথম।

 

যে ঘটনার সাজা

গত বছরের মার্চ বিএসইসির কমিশন সভাকক্ষে তৎকালীন চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ এবং কমিশনার মো. মহসিন চৌধুরী, মো. আলী আকবর ফারজানা লালারুখের সঙ্গে বৈঠক চলছিল।

 

সেই সময় একদল কর্মকর্তা-কর্মচারী সভাকক্ষে প্রবেশ করে তাঁদের চার ঘণ্টারও বেশি সময় অবরুদ্ধ করে রাখেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে সেনাবাহিনী গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করে।

 

তৎকালীন নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমানকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর প্রতিবাদেই কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন বলে জানা যায়। পরে তাঁরা কমিশনের বিরুদ্ধে দুর্ব্যবহারের অভিযোগও তোলেন।

 

ওই ঘটনার জেরে কয়েক দিন বিএসইসিতে কর্মবিরতি অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল। পরদিন মার্চ এই ঘটনায় রাজধানীর শেরেবাংলা থানায় ১৬ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলাও হয়।

 

যেভাবে সাজা চূড়ান্ত হলো

ফৌজদারি মামলার পাশাপাশি সরকারি বিধি অনুযায়ী তদন্ত বিভাগীয় মামলা রুজু হয়। অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে অভিযুক্ত অভিযোগকারী উভয়ের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।

 

নানা প্রক্রিয়া শেষে সরকারের পক্ষ থেকে মোট ২৩ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা পাঠানো হয় বিএসইসিতে। এর মধ্যে ২২ জনের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

 

বাকি একজন কর্মকর্তা এর আগেই অন্য একটি অভিযোগে চাকরি থেকে বরখাস্ত হওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে নতুন করে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

 

যাঁরা বাধ্যতামূলক অবসরে

তালিকায় রয়েছেন নির্বাহী পরিচালক রেজাউল করিম, পরিচালক আবুল হাসান মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম মজুমদার, অতিরিক্ত পরিচালক নজরুল ইসলাম মোল্যা মো. মিরাজ উস সুন্নাহ এবং যুগ্ম পরিচালক রাশেদুল আলম।

 

ছাড়া উপপরিচালক পর্যায়ের পাঁচজন এবং সহকারী পরিচালক ব্যক্তিগত কর্মকর্তা পর্যায়ের ছয়জনসহ মোট ১৭ জনের নাম রয়েছে তালিকায়।

 

বেতন অবনমনের শাস্তি পেয়েছেন সহকারী পরিচালক জনি হোসেন, রায়হান কবির, তরিকুল ইসলাম মাকসুদ মিলাসহ একজন লাইব্রেরিয়ান।

 

একজনের প্রতিবাদ

তবে সবাই এই সিদ্ধান্ত মেনে নেননি। বাধ্যতামূলক অবসরের শাস্তি পাওয়া একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, বিএসইসি কী কারণে তাঁর বিরুদ্ধে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা তিনি জানেন না।

 

তাঁর দাবি, এমন শাস্তি পাওয়ার মতো কোনো অপরাধ তিনি করেননি। সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

 

তথ্যসূত্র: বিএসইসি সূত্র