জাতীয় ডেস্ক | ক্রাইম ক্রনিকল


গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী পুলিশ বাহিনীকে জনবান্ধব ও সেবামুখী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে ‘পুরস্কার ও তিরস্কার’ নীতি অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।


রোববার দুপুরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে পুলিশ সদস্যদের সাহসিকতা ও প্রশংসনীয় কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ সম্মাননা সনদ ও আর্থিক পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।


মন্ত্রী বলেন, সততা, সাহসিকতা ও দেশপ্রেমের সঙ্গে দায়িত্ব পালনকারীদের যথাযথভাবে পুরস্কৃত করা হবে, আর যারা আইন-বিধি লঙ্ঘন করে জনসেবায় বাধা সৃষ্টি করবেন বা অনিয়মে জড়াবেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে থেকে ইমপ্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) উদ্ধারের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, উল্টো রথযাত্রা বা কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় উৎসবকে টার্গেট করেই এটি ঘটানো হয়েছে—এমন ধারণার সপক্ষে কোনো তথ্যপ্রমাণ নেই, বরং বিষয়টিকে কাকতালীয় বলে মনে করছেন তিনি। তিনি জানান, ডিএমপির বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ডিভাইসটি ইতিমধ্যে নিষ্ক্রিয় করেছে এবং ঘটনার তদন্ত চলমান রয়েছে।


সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, সংবিধানের সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী তার পদত্যাগপত্র স্পিকারের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে এবং তা গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে যেকোনো নাগরিক বা রাজনৈতিক দলের মতপ্রকাশ ও প্রতিবাদ জানানোর অধিকার রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন, দায়িত্ব পালনকালে সাবেক রাষ্ট্রপতি যে সাংবিধানিক দায়মুক্তি পেয়েছেন, তা বহাল থাকবে। পাশাপাশি আইন অনুযায়ী তাকে এসএসএফ, পিজিআর ও পুলিশের সমন্বিত নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।


এ বছর পুলিশ সপ্তাহে পদক প্রদান অনুষ্ঠান না হওয়ার কারণ জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, তড়িঘড়ি করে প্রণীত প্রাথমিক তালিকায় কিছু কারিগরি ত্রুটি ও অনিয়ম ধরা পড়ায় তা নতুন করে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। যাচাই শেষে দ্রুততম সময়ের মধ্যে যোগ্যদের নিয়ে সংশোধিত তালিকা অনুযায়ী পদক প্রদান করা হবে বলে তিনি জানান।


অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ও অতিরিক্ত সচিব (রাজনৈতিক ও বহিরাগমন) ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ। এতে আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির, ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদসহ মন্ত্রণালয় ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি (কনফিডেনশিয়াল) মো. কামরুল আহসান।


সাহসিকতা ও কৃতিত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ মোট ৯ জন পুলিশ সদস্যকে পুরস্কৃত করা হয় অনুষ্ঠানে। এদের মধ্যে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ ও ঢাকা রেলওয়ে থানার যৌথ উদ্যোগে মাত্র ৩০ মিনিটে এক প্রবাসীর হারানো পাসপোর্ট ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উদ্ধারে ভূমিকা রাখায় সাতজন পুলিশ সদস্যকে সম্মাননা দেওয়া হয়। এ ছাড়া ছিনতাইকারী গ্রেপ্তারে ভূমিকা রাখায় ডিএমপির দুই ট্রাফিক সার্জেন্টকেও পুরস্কৃত করা হয়।