আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ক্রাইম ক্রনিকল


ইসরায়েল–ফিলিস্তিন সংঘাতের প্রেক্ষাপটে দুই-রাষ্ট্র সমাধানকে এগিয়ে নিতে যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া ও কানাডা যৌথভাবে একটি শান্তি তহবিল চালু করেছে। মোট ৪ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৪৮ কোটি টাকা) মূল্যের এই উদ্যোগে তিন দেশই সমানভাবে অর্থায়ন করছে।

বৃহস্পতিবার (১০ জুন) ঘোষিত এই তহবিলের লক্ষ্য হলো ফিলিস্তিনিদের জন্য মানবিক সহায়তা প্রদান, গাজায় শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহায়তা করা এবং পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংস কার্যক্রম মোকাবিলায় পদক্ষেপ জোরদার করা।

যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই তহবিলের মাধ্যমে নতুন ও চলমান তৃণমূল পর্যায়ের প্রকল্পগুলোকে সহায়তা দেওয়া হবে। বিশেষ করে যুব গোষ্ঠী, নাগরিক সমাজ সংগঠন এবং নারী নেতৃত্বাধীন উদ্যোগগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

তিন দেশ মনে করছে, দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য কেবল কূটনৈতিক উদ্যোগই যথেষ্ট নয়; স্থানীয় পর্যায়ে আস্থা, সংলাপ ও সহাবস্থান গড়ে তোলাও জরুরি।


এই উদ্যোগ এমন সময় এসেছে যখন যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, কানাডার পাশাপাশি ফ্রান্স, নিউজিল্যান্ড ও নরওয়ে একযোগে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতার সঙ্গে যুক্ত নেটওয়ার্কগুলোর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

পশ্চিম তীরে অবৈধ বসতি সম্প্রসারণ এবং সহিংসতা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে পশ্চিমা দেশগুলোর এ ধরনের সমন্বিত অবস্থানকে একটি বড় কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়ভেট কুপার এক বিবৃতিতে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি, ন্যায়বিচার ও নিরাপত্তার জন্য দুই-রাষ্ট্র সমাধানই একমাত্র কার্যকর পথ। তাঁর মতে, যুক্তরাজ্যসহ অংশীদার দেশগুলো ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে ইসরায়েলের পাশাপাশি স্বীকৃতি দেওয়ার মাধ্যমে এই অবস্থান আরও সুস্পষ্ট করেছে।

তিনি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্য শান্তিকে শুধু আন্তর্জাতিক কূটনীতির বিষয় হিসেবে দেখা যথেষ্ট নয়; বরং সংঘাতপ্রবণ অঞ্চলে স্থানীয় সংগঠনগুলোকে সম্পৃক্ত করে জনগণের মধ্যে আস্থা ও সহযোগিতা গড়ে তুলতে হবে।

তহবিলটির মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের মানবিক সহায়তা প্রদান ছাড়াও ‘সহিংস’ বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ এবং গাজায় শান্তি প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাকে সমর্থন করার কথা বলা হয়েছে।

এছাড়া উদ্যোগটির লক্ষ্য হলো ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনি জনগণের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠা, যা সংঘাতের মূল কারণগুলো মোকাবিলার মাধ্যমে সম্ভব হবে বলে মনে করছে দেশগুলো।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় চলমান সংঘাত শুরুর পর পশ্চিম তীরেও সহিংসতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ওই সময় থেকে এখন পর্যন্ত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনী ও বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতায় এক হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

জাতিসংঘের একটি তদন্তে বলা হয়েছে, পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের সরাসরি সম্পৃক্ততা ছিল এবং অনেক ক্ষেত্রে নিরাপত্তা বাহিনী এসব হামলাকারীদের সুরক্ষা দিয়েছে।

নতুন এই শান্তি তহবিলকে বিশ্লেষকরা সংঘাত নিরসনে তৃণমূল পর্যায়ে সম্পৃক্ততা বাড়ানোর একটি কৌশলগত উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন।