স্পোর্টস ডেস্ক | ক্রাইম ক্রনিকল


ম্যাচের শুরুতে পেনাল্টি মিস করেছিলেন। তখন আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মুখে ছিল হতাশা। তবে লিওনেল মেসির গল্প যেন বারবার একইভাবে ফিরে আসে—চাপের মুহূর্তে দলের ভরসা হয়ে। মিশরের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে গোল করে আর্জেন্টিনাকে ৩-২ গোলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার পাশাপাশি একাধিক রেকর্ডও নিজের নামে লিখিয়েছেন এই অধিনায়ক।


চলতি ২০২৬ বিশ্বকাপে এটি ছিল মেসির অষ্টম গোল। এর মাধ্যমে তিনি ১৯৩০ সালের প্রথম বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি গিয়ের্মো স্তাবিলের এক আসরে সর্বোচ্চ ৮ গোলের রেকর্ড স্পর্শ করেছেন। প্রায় ৯৬ বছর পর কোনো আর্জেন্টাইন ফুটবলার বিশ্বকাপের এক আসরে এই সংখ্যক গোল করার কীর্তি গড়লেন।


এখন আরেকটি গোল করলেই স্তাবিলেকে ছাড়িয়ে আর্জেন্টিনার হয়ে এক আসরের সর্বোচ্চ গোলদাতার নতুন রেকর্ড গড়বেন মেসি।


চলতি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত খেলা প্রতিটি ম্যাচেই গোল করেছেন মেসি। আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া, জর্ডান, কেপ ভার্দে ও মিশরের বিপক্ষে গোল করে তিনি টুর্নামেন্টজুড়ে দুর্দান্ত ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছেন। অন্যদিকে, সর্বোচ্চ গোলদাতার লড়াইয়ে থাকা কিলিয়ান এমবাপে, আর্লিং হলান্ড ও হ্যারি কেইন অন্তত একটি ম্যাচে গোল করতে পারেননি।


মিশরের বিপক্ষে গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপে নিজের মোট গোলসংখ্যা ২১-এ উন্নীত করেছেন মেসি। ফলে বিশ্বকাপের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেছেন এই আর্জেন্টাইন মহাতারকা।


শুধু গোলই নয়, এই ম্যাচে আরও কয়েকটি অনন্য কীর্তিও গড়েছেন তিনি। বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম ফুটবলার হিসেবে নকআউট পর্বের টানা ছয় ম্যাচে গোল করার নজির স্থাপন করেছেন মেসি। সব মিলিয়ে বিশ্বকাপে টানা নয় ম্যাচে গোল করার কৃতিত্বও এখন তার দখলে।


এদিকে একটি অ্যাসিস্ট করে আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনার বিশ্বকাপের ৮ অ্যাসিস্টের রেকর্ডও ছাড়িয়ে গেছেন মেসি। বিশ্বকাপে তার মোট অ্যাসিস্টের সংখ্যা এখন ৯।


তবে ম্যাচের শুরুতে পেনাল্টি মিস করায় একটি অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ডও যুক্ত হয়েছে তার নামের পাশে। বিশ্বকাপের এক আসরে সর্বোচ্চ দুটি পেনাল্টি মিস করার রেকর্ডেও এখন তিনি যৌথভাবে আছেন। পাশাপাশি মিশরের বিপক্ষে ম্যাচটি ছিল বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে তার ১৪তম উপস্থিতি, যা নতুন একটি রেকর্ড।