স্পোর্টস ডেস্ক | ক্রাইম ক্রনিকল
বিশ্বকাপে ব্রাজিল মানেই অন্তত শেষ আট—এমন এক অলিখিত নিয়ম যেন ফুটবল বিশ্ব মেনে নিয়েছিল গত ৩৬ বছর ধরে। কিন্তু ২০২৬ বিশ্বকাপে এসে সেই দীর্ঘ ঐতিহ্য ভেঙে দিল আর্লিং হালান্ডের নরওয়ে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত শেষ ষোলোর ম্যাচে নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে বিদায় নিয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। হালান্ডের জোড়া গোলে গড়া এই জয়ে শুধু ব্রাজিলের ‘হেক্সা’ স্বপ্নই শেষ হয়নি, ফিরে এসেছে ১৯৯০ সালের সেই তিক্ত স্মৃতিও।
ইতিহাস বলছে, এর আগে সর্বশেষ ১৯৯০ সালের ইতালি বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে ব্যর্থ হয়েছিল ব্রাজিল। সেবার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনার কাছে ১-০ গোলে হেরে শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নিতে হয়েছিল সেলেসাওদের। এরপর টানা আটটি বিশ্বকাপে অন্তত শেষ আট নিশ্চিত করেছিল হলুদ জার্সিধারীরা। এই সময়ে ১৯৯৪ ও ২০০২ সালে বিশ্বকাপও জিতেছিল ব্রাজিল। কিন্তু ৩৬ বছর পর সেই ধারাবাহিকতায় ইতি টানল নরওয়ে।
এই পরাজয়ের মধ্য দিয়ে আরেকটি বিরল পরিসংখ্যান আরও শক্তিশালী হয়েছে। আন্তর্জাতিক ফুটবলে ইতিহাসে ৯১টি ভিন্ন দেশের বিপক্ষে খেলেছে ব্রাজিল। কিন্তু নরওয়েই একমাত্র দল, যাদের বিপক্ষে আজও কোনো জয়ের দেখা পায়নি পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। দুই দলের পাঁচটি দেখায় তিনটিতে জিতেছে নরওয়ে, বাকি দুটি ম্যাচ হয়েছে ড্র। অর্থাৎ ব্রাজিলের বিপক্ষে এখনো অপরাজিত নরওয়ে।
ম্যাচের নায়ক ছিলেন আর্লিং হালান্ড। দ্বিতীয়ার্ধের শেষ দিকে তাঁর জোড়া গোলে ইতিহাস গড়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে নরওয়ে। যোগ করা সময়ে নেইমার পেনাল্টি থেকে একটি গোল শোধ করলেও ব্রাজিলকে আর ম্যাচে ফেরানো সম্ভব হয়নি।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে ব্রাজিলের জন্য নরওয়ে যেন এক অনতিক্রম্য বাধা। ৩৬ বছরের ঐতিহ্য ভাঙার রাতেও সেই অজেয় রেকর্ড অক্ষুণ্ন রেখে ফুটবল বিশ্বকে নতুন এক ইতিহাস উপহার দিল হালান্ডের দল।