স্পোর্টস ডেস্ক | ক্রাইম ক্রনিকল 


২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শুরুটা প্রত্যাশামতো হয়নি ব্রাজিলের। প্রথম ম্যাচে মরক্কোর সঙ্গে ড্র করে সমালোচনার মুখে পড়েছে সেলেসাওরা। তবে ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, শুরুর এই হোঁচট সত্ত্বেও শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবেই রয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।


বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে হতাশাজনক পারফরম্যান্স, কোপা আমেরিকা থেকে দ্রুত বিদায় এবং একাধিক কোচ পরিবর্তনের কারণে টুর্নামেন্ট শুরুর আগে ব্রাজিলকে নিয়ে খুব বেশি আশাবাদী ছিলেন না অনেকেই। কিন্তু কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণে এবারই দীর্ঘ ২৪ বছরের শিরোপা খরা কাটাতে পারে দলটি।


প্রথমত, ২০০২ সালের পর আর বিশ্বকাপ জেতেনি ব্রাজিল। ইতিহাস বলছে, তারা কখনোই দীর্ঘ সময় বিশ্বকাপ শিরোপা থেকে দূরে থাকেনি। ফলে দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটানোর তাড়না এবার দলের জন্য বাড়তি প্রেরণা হিসেবে কাজ করতে পারে।


দ্বিতীয়ত, ১৯৯৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ব্রাজিল। এবারও যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজক। একই পরিবেশ ও আবহে নতুন ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন দেখছে সেলেসাওরা।


তৃতীয় কারণ হলো অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের সমন্বয়ে গড়া স্কোয়াড। নেইমার, ক্যাসিমিরো, অ্যালিসন, মারকিনিওস, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও রাফিনিয়ার মতো অভিজ্ঞদের সঙ্গে এন্ড্রিক ও অন্যান্য তরুণ ফুটবলারের উপস্থিতি দলটিকে দিয়েছে ভারসাম্য।


চতুর্থ কারণ, অভিজ্ঞ কোচ কার্লো আনচেলত্তির নেতৃত্ব। ইউরোপের শীর্ষ ক্লাব পর্যায়ে অসাধারণ সাফল্যের অভিজ্ঞতা থাকা এই ইতালিয়ান কোচ নকআউট ম্যাচে কৌশলগত দক্ষতার জন্য পরিচিত।


পঞ্চমত, এবারের বিশ্বকাপে ব্রাজিল সবচেয়ে বড় ফেভারিট নয়। ফলে অতিরিক্ত প্রত্যাশার চাপ তুলনামূলক কম। অতীতে এমন পরিস্থিতিতে ব্রাজিলের সাফল্যের নজির রয়েছে।


ষষ্ঠ ও শেষ কারণ হিসেবে উঠে এসেছে ২০০২ বিশ্বকাপের সঙ্গে কিছু কাকতালীয় মিল। সেবার ইনজুরি কাটিয়ে ফিরেছিলেন রোনালদো, এবার দলে ফিরেছেন নেইমার। এছাড়া দুর্বল বাছাইপর্ব, কোপা আমেরিকায় হতাশা এবং কোচ পরিবর্তনের মতো ঘটনাগুলোরও মিল খুঁজে পাচ্ছেন অনেক বিশ্লেষক।


সব মিলিয়ে প্রথম ম্যাচের ড্র হতাশা তৈরি করলেও ব্রাজিলকে শিরোপা দৌড় থেকে ছিটকে দেওয়ার সুযোগ নেই বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা। গ্রুপ পর্বে ঘুরে দাঁড়াতে পারলে ২৪ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ষষ্ঠ বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন পূরণ করতে পারে সেলেসাওরা।