স্পোর্টস ডেস্ক | ক্রাইম ক্রনিকল
প্রথমার্ধে দেখে মনে হচ্ছিল, ২০০২ বিশ্বকাপের দুঃস্বপ্ন যেন আবার ফিরে আসছে ফ্রান্সের জন্য। আক্রমণে ছিল না ধার, গোলমুখে ছিল না কার্যকর কোনো প্রচেষ্টা। কিন্তু বিরতির পর বদলে যায় দৃশ্যপট। অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপের নেতৃত্বে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করে দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। শেষ পর্যন্ত সেনেগালকে ৩-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করেছে দিদিয়ে দেশমের দল।
মঙ্গলবার নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ‘আই’ গ্রুপের ম্যাচে প্রথমার্ধে বেশ কয়েকবার ফ্রান্সকে চাপে ফেলে সেনেগাল। বিশেষ করে নিকোলাস জ্যাকসন ও সাদিও মানের আক্রমণে রক্ষণভাগকে ব্যস্ত থাকতে হয় ফরাসিদের। ২৫ মিনিটে জ্যাকসনের শট পোস্টে লেগে ফিরে না এলে এগিয়েও যেতে পারত আফ্রিকার দলটি।
প্রথম ৪৫ মিনিটে ফ্রান্স ছিল নিষ্প্রভ। গোলের উদ্দেশে তাদের কার্যকর আক্রমণ ছিল হাতে গোনা। ফলে গোলশূন্য সমতায় বিরতিতে যায় দুই দল।
দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য ভিন্ন এক ফ্রান্সকে দেখা যায়। মাইকেল ওলিসে, এমবাপে ও ডিজায়ার দুয়ের সমন্বয়ে একের পর এক আক্রমণ শুরু করে তারা। বেশ কয়েকটি সুযোগ নষ্ট হওয়ার পর ৬৬ মিনিটে অবশেষে জালের দেখা পায় ফরাসিরা। ওলিসের নিখুঁত পাস থেকে দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে দলকে এগিয়ে দেন অধিনায়ক এমবাপ্পে।

দুই মিনিট পরই সমতায় ফিরেছে ভেবে উল্লাসে মেতে উঠেছিল সেনেগাল। কিন্তু নিকোলাস জ্যাকসনের গোলটি অফসাইডের কারণে বাতিল হলে স্বস্তি ফিরে পায় ফ্রান্স।
এরপর ৮২ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন বদলি খেলোয়াড় ব্র্যাডলি বার্কোলা। আদ্রিয়ান রাবিওটের পাস থেকে চমৎকার চিপ শটে গোল করে ফরাসিদের জয় প্রায় নিশ্চিত করে দেন তিনি।
ইনজুরি সময়ে ইব্রাহিম এমবায়ের গোলে আশা জাগিয়েছিল সেনেগাল। তবে সেই আশা স্থায়ী হয়নি বেশিক্ষণ। যোগ করা সময়ের পরের মিনিটেই বক্সের বাইরে থেকে দর্শনীয় শটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন এমবাপে। তাতেই ৩-১ ব্যবধানে নিশ্চিত হয় ফ্রান্সের জয়।
২০০২ বিশ্বকাপে সেনেগালের কাছে হেরে টুর্নামেন্ট শুরু করেছিল ফ্রান্স। ২৪ বছর পর আবার বিশ্বকাপের মঞ্চে আফ্রিকার দলটির মুখোমুখি হয়ে শুরুতে কিছুটা অস্বস্তিতে পড়লেও শেষ পর্যন্ত সেই ‘জুজু’ কাটিয়ে স্বস্তির জয় নিয়েই মাঠ ছেড়েছে লে ব্লুরা।