স্পোর্টস  ডেস্ক। ক্রাইম ক্রনিকল 


একসময় বিশ্ব ফুটবলে আধিপত্য বিস্তার করা স্পেনের বিশ্বকাপ যাত্রা এখন যেন হতাশার প্রতিচ্ছবি। ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের পর গত ১৬ বছরে মাত্র তিনটি ম্যাচে জয় পেয়েছে ‘লা রোহা’। সর্বশেষ ২০২৬ বিশ্বকাপেও জয় দিয়ে শুরু করতে পারেনি তারা। নিজেদের প্রথম ম্যাচে বিশ্বকাপ অভিষিক্ত কেপ ভার্দের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করেছে স্পেন।


২০১৪ বিশ্বকাপে শিরোপাধারী হিসেবে নামলেও গ্রুপ পর্বেই বিদায় নেয় স্পেন। নেদারল্যান্ডসের কাছে ৫-১ এবং চিলির কাছে ২-০ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যায় তারা। একমাত্র জয় আসে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৩-০ ব্যবধানে।


২০১৮ বিশ্বকাপে পর্তুগাল ও মরক্কোর সঙ্গে ড্র করে এবং ইরানকে ১-০ গোলে হারায় স্পেন। তবে শেষ ষোলোতে স্বাগতিক রাশিয়ার কাছে টাইব্রেকারে হেরে বিদায় নিতে হয়।


২০২২ কাতার বিশ্বকাপে কোস্টারিকাকে ৭-০ গোলে উড়িয়ে দুর্দান্ত সূচনা করলেও পরে জার্মানির সঙ্গে ড্র এবং জাপানের কাছে হার। শেষ ষোলোতে মরক্কোর বিপক্ষে টাইব্রেকারে হেরে আবারও হতাশার বিদায়।


এবার ২০২৬ বিশ্বকাপেও শুরুটা আশানুরূপ হয়নি। কেপ ভার্দের বিপক্ষে ম্যাচে বলের দখল ও আক্রমণে আধিপত্য দেখিয়েও গোলের দেখা পায়নি স্পেন। ফলে ম্যাচটি ০-০ গোলে ড্র হয়।


২০১০ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের এই পরিসংখ্যান আরও বিস্ময়কর। গত চারটি বিশ্বকাপে স্পেনের মোট জয় মাত্র তিনটি—


১) অস্ট্রেলিয়া (২০১৪)

২) ইরান (২০১৮)

৩) কোস্টারিকা (২০২২)


বাকি ম্যাচগুলোতে ড্র অথবা পরাজয়ই সঙ্গী হয়েছে তাদের।


তবে ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান স্পেন দলে প্রতিভার অভাব নেই। তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামাল, পেদ্রি, নিকো উইলিয়ামস, গাভি, পাউ কুবার্সি ও আলেহান্দ্রো বালদেদের নিয়ে দলটি এখনও শিরোপার অন্যতম দাবিদার। কিন্তু বিশ্বকাপে নকআউট পর্যায়ে ধারাবাহিক ব্যর্থতা এবং তুলনামূলক দুর্বল দলের বিপক্ষে পয়েন্ট হারানো স্পেনকে নতুন করে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।


২০১০ সালে ইকের কাসিয়াস, আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা, জাভি হার্নান্দেজ, সের্হিও রামোস, জেরার্ড পিকে, দাভিদ ভিয়া ও ফার্নান্দো তোরেসদের হাত ধরে বিশ্ব ফুটবল শাসন করা স্পেন এখন সেই সাফল্যের পুনরাবৃত্তির অপেক্ষায়।

এখন দেখার বিষয়, কেপ ভার্দের বিপক্ষে হোঁচট খাওয়ার পর বাকি ম্যাচগুলোতে ঘুরে দাঁড়াতে পারে কি না স্পেন। নাকি ২০১০ সালের গৌরবই তাদের শেষ বিশ্বকাপ স্মৃতি হয়ে থাকবে?