স্পোর্টস ডেস্ক | ক্রাইম ক্রনিকল
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরানের জাতীয় ফুটবল দল যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছে। আসন্ন বিশ্বকাপকে সামনে রেখে দলটি শনিবার (১৪ জুন) লস অ্যাঞ্জেলেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
চলমান রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই সফরকে কেবল একটি ক্রীড়া ইভেন্ট নয়, বরং কূটনৈতিক ও প্রতীকী গুরুত্বসম্পন্ন ঘটনা হিসেবেও দেখা হচ্ছে। যুদ্ধবিরতির আবহে ইরানের যুক্তরাষ্ট্র সফর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বিশ্বকাপের প্রস্তুতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছালেও রাজনৈতিক বিতর্ক থেকে পুরোপুরি দূরে থাকতে পারছে না ইরান দল। দেশটির তারকা ফরোয়ার্ড মেহদি তারেমি বলেছেন, চলমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি টুর্নামেন্টের পরিবেশকে প্রভাবিত করছে এবং খেলোয়াড়দের ওপর অতিরিক্ত মানসিক চাপ সৃষ্টি করছে।
তারেমির ভাষায়, “আমরা মাঠে নামছি মানুষকে একত্রিত করার বার্তা নিয়ে। আমাদের লক্ষ্য শুধুই ফুটবল খেলা। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় রাজনীতি থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন থাকা কঠিন।”
এদিকে ভিসা-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে দলের প্রস্তুতি পরিকল্পনায়ও পরিবর্তন আনতে হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে বাধার মুখে পড়ায় ইরানের বিশ্বকাপ বেস ক্যাম্প অ্যারিজোনা থেকে সরিয়ে মেক্সিকোর সীমান্তবর্তী শহর টিজুয়ানায় স্থানান্তর করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, দলের প্রায় ১৫ জন কর্মকর্তা ও ব্যবস্থাপনা সদস্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি পাননি। এতে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ও লজিস্টিক ব্যবস্থাপনায় কিছুটা বিঘ্ন ঘটেছে। মার্কিন কর্তৃপক্ষের দাবি, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভিসা দেওয়া হয়নি। অন্যদিকে ইরান এ ঘটনাকে খেলাধুলায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।
লস অ্যাঞ্জেলেসের বৃহৎ ইরানি অভিবাসী সম্প্রদায়, যা ‘তেহরাঞ্জেলেস’ নামেও পরিচিত, তাদের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে মতভেদ দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ ইরানের ম্যাচ বয়কটের ঘোষণা দিয়েছেন, আবার অনেকে রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার জন্য প্রতিবাদ কর্মসূচির পরিকল্পনা করছেন। ফলে প্রবাসী ইরানিদের সমর্থন কতটা পাবে দলটি, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এরই মধ্যে বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচের প্রস্তুতি চূড়ান্ত করছে ইরান। দলটি আগামীকাল লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফাই স্টেডিয়ামে নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হবে। ম্যাচটিকে ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং ফিফা সব পক্ষকে সংযম ও ক্রীড়াসুলভ আচরণ বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে।
ইরানি ফুটবলাররা বারবার জোর দিয়ে বলছেন, তাদের লক্ষ্য শুধুই ফুটবল। তবে যুদ্ধবিরতির এই স্পর্শকাতর সময়ে তাদের প্রতিটি পদক্ষেপই আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও ক্রীড়ার সংযোগস্থলে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।