নিজস্ব প্রতিবেদক | ক্রাইম ক্রনিকল
ধর্ষণ ও জোরপূর্বক গর্ভপাত ঘটানোর মামলায় আটক ছাত্র শিবিরের কেন্দ্রীয় সহ-আন্তর্জাতিক সম্পাদক "নিখোঁজ জিসান" কে প্রেমের দায়ে বহিষ্কার করে কেন্দ্রীয় ছাত্র শিবির।
ধর্ষণের মতো গুরুতর বিষয়কে প্রেমের সম্পর্কে লঘু করে দেখা এবং আসামীর পরিচয় লুকিয়ে ভিক্টিম ও ভিকটিমের পরিবারের পরিচয় প্রকাশের কারণে ফেসবুক জুড়ে অসংখ্য মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করছে ছাত্র শিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ডাকসু জিএস এস এম ফরহাদের বিরুদ্ধে।
গত ১১ জুন রাত থেকে ছাত্র শিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা জিসান নিখোঁজ হওয়ার গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে , জামায়াতে ইসলামীর আমির সহ জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা তাকে উদ্ধারের দাবি জানিয়ে এবং আইন শৃঙ্খলা অবস্থার সমালোচনা করে পোস্ট দেন।
নিখোঁজ হওয়ার ২৩ ঘন্টা পর গত রাত দশটার দিকে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে একটি প্রেস রিলিজ দেন, প্রেস রিলিজে পুলিশ দাবি করেন, জিসান স্বেচ্ছায় আত্মগোপন করেন।
এক বিধবা নারীকে বিবাহের প্রলোভনে ধর্ষন ও গর্ভপাত করান জিসান, বিয়ে এড়াতে তিনি স্বেচ্ছায় আত্মগোপন করেন, উল্লেখ্য ঐ রাতেই ভুক্তভোগী নারী দাউদকান্দি মডেল থানায় মামলায় ধর্ষণের মামলা করেন , এবং পুলিশ তাকে ধর্ষণ মামলায় গ্রেফতার দেখান।
এই বিষয় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনা সমালোচনা তুঙ্গে গেলে ছাত্র শিবিরের কেন্দ্রীয় সহ প্রচার সম্পাদক ও ডাকসু জিএস এস এম ফরহাদ এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্র শিবিরের অবস্থান পরিষ্কার করতে একটি পোস্ট দেন।
উক্ত পোস্টে তিনি দাবি করেন এখনো জিসানের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ না হওয়ায় প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হয়নি। তবে ভুক্তভোগী বিধবার সাথে জিসানের প্রেমের সম্পর্ক প্রমাণিত হওয়ায় প্রেম করার অভিযোগে জিসানকে ছাত্র শিবিরের সাংগঠনিক নিয়মানুযায়ী বহিষ্কার করা হয়েছে।

ছবিতে এসএম ফরহাদের ফেসবুক পোস্ট। ছবি: সংগৃহীত।
জানা যায়, জিসান ছাত্র শিবিরের কেন্দ্রীয় সহ-আন্তর্জাতিক সম্পাদক পদে দায়িত্বরত ছিলেন যেটি এস এম ফরহাদ তার পোস্টে উল্লেখ করেননি।
উক্ত পোস্টে জিসান কর্তৃক বিধবাকে ধর্ষণ ও গর্ভপাত ঘটানোর মতো গুরুতর অপরাধকে প্রেমের সম্পর্ক পরিভাষায় হাস্যকর করে তোলা ও চাপিয়ে যাওয়ার গুরুতর অভিযোগ তুলছেন অসংখ্য এক্টিভিস্ট।
এছাড়াও পোস্টে অভিযুক্ত আসামীর পরিচয় লুকিয়ে ভিক্টিম এবং ভিক্টিম এর পরিবারের সদস্যদের পরিচয় প্রকাশকে ভুক্তভোগীকে হেয়প্রতিপন্ন করা ও আরো সামাজিক ভোগান্তিতে ঠেলে দেওয়ার পদ্ধতি বলে মন্তব্য করেছেন অনেকেই।
এই বিষয়ে সাবেক বাগছাসের কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক মুহিব্বুল্লাহ আর মাশনুন ফেসবুকে লিখেন , "তাকে বহিষ্কার বিষয়ক যেই পোস্ট সে দিয়েছে, সেখানে সে পুলিশ ও নিউজের ভিত্তিতে "ভিক্টিম" ও ভিক্টিমের বোনের নাম পরিচয় বলে দিয়েছে।শিবিরের সেই জিসান নামক মানুষটা জোড়পূর্বক শারীরিক সম্পর্ক বা ধর্ষণ করে থাকে, তাহলে ভিক্টিমের পরিচয় তুলে ধরার কারণে এই ব্রেইনলেস অমানুষের কি পরিনতি হয় সেটাও দেখার অপেক্ষায় আছি আমি!"
চট্টগ্রাম জেলা ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় নেতা মুনতাসির মাহমুদ ফেসবুকে লিখেন, " সভ্য সমাজে শিবির মেইনস্ট্রিম হইলে কী পরিমাণ অসংলগ্ন খারাপ পরিণতি হইতে পারে তা কল্পনাতীত"
ডাকসু জিয়া হল সংসদের সংস্কৃতি সম্পাদক আবরার হারুন লিখেন, " সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো, পুলিশের বরাতে সামনে আসা গুরুতর অভিযোগের প্রসঙ্গে যেখানে আইনি ও তদন্তমূলক প্রক্রিয়ার কথা থাকার কথা, সেখানে সংগঠনের পক্ষ থেকে বিষয়টিকে বারবার “প্রেম” বা “অনৈতিক সম্পর্ক”-এর কাঠামোয় ব্যাখ্যা করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।"