আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ক্রাইম ক্রনিকল


চীনের প্রেসিডেন্ট Xi Jinping এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump-এর বেইজিং বৈঠকের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, বৈঠকের সময় শি জিনপিং তুলনামূলকভাবে কিছুটা উঁচু সোফায় বসে আছেন, আর ট্রাম্প বসেছেন অপেক্ষাকৃত নিচু আসনে। এ দৃশ্য ঘিরে অনলাইনে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা-কল্পনা।


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) অনেক ব্যবহারকারী দাবি করেছেন, ট্রাম্পকে দৃশ্যত খাটো দেখানোর উদ্দেশ্যেই আসন বিন্যাস করা হয়েছিল। কেউ কেউ মন্তব্য করেছেন, চীনা কর্তৃপক্ষ কূটনৈতিক বার্তা দেওয়ার জন্য এমন সূক্ষ্ম বিষয়ও পরিকল্পিতভাবে ব্যবহার করে।


তবে অন্য একটি ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, দুই নেতার উচ্চতা সমান দেখানোর জন্য ট্রাম্পের আসনে একটি কুশন রাখা হয়েছিল, যা পরে ট্রাম্প সরিয়ে ফেলেন। ফলে বসার সময় তিনি শি জিনপিংয়ের চেয়ে নিচু দেখাতে শুরু করেন।


সম্প্রতি শি জিনপিংয়ের আমন্ত্রণে তিন দিনের সরকারি সফরে চীন যান ট্রাম্প। প্রায় এক দশকের মধ্যে কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের এটিই ছিল প্রথম চীন সফর। সফরে দুই দেশের মধ্যে বেশ কয়েকটি ব্যবসায়িক চুক্তি ও গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।


এদিকে ট্রাম্পের সফর ঘিরে আরেকটি ভিডিওও ভাইরাল হয়েছে। সেখানে দেখা যায়, বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলের সিঁড়ি বেয়ে ওঠার সময় শি জিনপিং সাময়িকভাবে থেমে ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলছেন। সামাজিক মাধ্যমে দাবি করা হয়, ট্রাম্প ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন বলে শি তাকে কিছুটা সময় দেওয়ার জন্য থেমেছিলেন। তবে এ দাবির পক্ষে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি।


কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, চীনের রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানগুলোতে আসন বিন্যাস, দূরত্ব ও অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নির্ধারণ করা হয়। ফলে দুই নেতার আসনের উচ্চতা নিয়ে বিতর্ক নতুন করে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক প্রটোকল নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে।


তবে চীন বা যুক্তরাষ্ট্রের কোনো পক্ষই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। ফলে ট্রাম্পকে ইচ্ছাকৃতভাবে ছোট দেখানোর দাবি এখনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক জল্পনা হিসেবেই রয়ে গেছে।