স্পোর্টস ডেস্ক। ক্রাইম ক্রনিকল
ফুটবল বিশ্বে এবার এক অভূতপূর্ব অধ্যায়ের সূচনা করতে যাচ্ছে বিশ্বকাপ। ৯৬ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একই আসরে তিনটি পৃথক দেশে তিনটি পৃথক উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আয়োজন করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হচ্ছে আসন্ন ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬, যা ঘিরে ফুটবল বিশ্বে শুরু হয়েছে ব্যাপক উত্তেজনা।
আয়োজকরা জানিয়েছেন, এবার বিশ্বকাপকে কেবল একটি খেলা নয়—বরং সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও আধুনিক প্রযুক্তির বৈশ্বিক উৎসব হিসেবে উপস্থাপন করাই মূল লক্ষ্য।
মেক্সিকো সিটি: প্রথম উদ্বোধন
বিশ্বকাপের প্রথম উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবে মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামে। বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় শুরু হবে বর্ণাঢ্য এই আয়োজন। অনুষ্ঠান শেষে রাত ১টায় উদ্বোধনী ম্যাচে স্বাগতিক মেক্সিকো মুখোমুখি হবে দক্ষিণ আফ্রিকার।
এখানে তুলে ধরা হবে মেক্সিকোর আদিবাসী সংস্কৃতি, লোকজ শিল্প ও ঐতিহ্যবাহী কাগজশিল্প ‘পাপেল পিকাডো’। প্রায় ১৬–১৭ মিনিটের এই পরিবেশনা বিশ্বকাপ শুরুর আনুষ্ঠানিক আবহ তৈরি করবে।

কানাডার টরন্টো: বৈচিত্র্যের উৎসব
দ্বিতীয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে কানাডার টরন্টোতে। বাংলাদেশ সময় রাত ১১টা ৩০ মিনিটে শুরু হবে অনুষ্ঠান এবং রাত ১টায় মাঠে নামবে স্বাগতিক কানাডা ও বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা।
এই আয়োজনে কানাডার ইতিহাস, বহুসাংস্কৃতিক সমাজ এবং গৌরবময় মুহূর্তগুলো তুলে ধরা হবে। পারফর্ম করবেন অ্যালানিস মরিসেট, মাইকেল বুবলে, আলেসিয়া ক্যারা, নোরা ফাতেহিসহ আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন শিল্পীরা।

যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেস: আধুনিকতার ছোঁয়া
তৃতীয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবে যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়ামে। বাংলাদেশ সময় ভোর ৫টা ৩০ মিনিটে শুরু হয়ে সকাল ৭টায় স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র মুখোমুখি হবে প্যারাগুয়ের।
এই আয়োজন হবে প্রযুক্তিনির্ভর, ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট ও গল্পভিত্তিক উপস্থাপনায় সমৃদ্ধ। কেটি পেরি, লিসা, অ্যানিত্তা, রেমাসহ বিশ্বখ্যাত শিল্পীরা মঞ্চ মাতাবেন।

বিশ্বকাপের নতুন বার্তা
আয়োজকদের মতে, এবারের বিশ্বকাপের মূল বার্তা হলো—ভাষা, সংস্কৃতি ও সীমান্তের ভেদাভেদ ভুলে ফুটবলের মাধ্যমে বিশ্বকে একসূত্রে বাঁধা।
তিন দেশে একসঙ্গে তিনটি উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আয়োজনের মাধ্যমে ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ নতুন এক ইতিহাস রচনা করতে যাচ্ছে, যা ফুটবলকে আরও বৈশ্বিক ও বৈচিত্র্যময় রূপ দেবে।