আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ক্রাইম ক্রনিকল
দক্ষিণ আমেরিকার দেশ কলম্বিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ৭৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশটির পশ্চিমাঞ্চলের একাধিক শহরে বহু ভবন ধসে পড়েছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এরপর কলম্বিয়া সরকার জাতীয় দুর্যোগ ঘোষণা করেছে।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (ইউএসজিএস) তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৪। এর উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০৭ কিলোমিটার গভীরে। উৎপত্তিস্থল চোকো অঞ্চলের সান হোসে দেল পালমার পৌরসভার কাছাকাছি, রাজধানী বোগোতা থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার পশ্চিমে।
তবে মাত্রা নিয়ে দুই সংস্থার হিসাবে পার্থক্য রয়েছে। কলম্বিয়ার ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা প্রাথমিকভাবে মাত্রা ৬ দশমিক ৬ বলে জানিয়েছিল, পরে তারাও ইউএসজিএসের হিসাবের সঙ্গে সমন্বয় করে।
যেসব শহরে ক্ষতি
চোকো বিভাগের রাজধানী কিবদোতে হতাহত ও ভবনের ব্যাপক ক্ষতির কথা জানিয়েছেন প্রাদেশিক গভর্নর। দেশটির তৃতীয় বৃহত্তম শহর কালির মেয়রও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির কথা জানিয়েছেন।

ছবি: রয়টার্স
কালিতে ধসে পড়া একটি ভবনের ধ্বংসস্তূপে উদ্ধারকাজ চলছে বলে জানা গেছে। একটি হাসপাতাল থেকে রোগীদের সরিয়ে নিতেও দেখা গেছে।
কালদাস বিভাগের মানিসালেস শহরেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। প্রকাশিত ভিডিওতে একটি গির্জার সামনের অংশ ধসে পড়তে দেখা যায়।
রাজধানী বোগোতায় কম্পন এতটাই তীব্র ছিল যে মানুষ ভবন ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসেন। জরুরি সাইরেন বেজে ওঠার পর অনেককে রাতের পোশাকেই বেরিয়ে আসতে দেখা যায়।
বোগোতার মেয়র কার্লোস ফার্নান্দো গালান জানিয়েছেন, কিছু ভবনে ফাটল দেখা দিলেও সেখানে গুরুতর ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

ছবি: এএফপি
কম্পন অনুভূত হয়েছে প্রতিবেশী ইকুয়েডর এবং উত্তরে পানামা পর্যন্ত।
ঝুঁকিতে বিপুল জনগোষ্ঠী
উৎপত্তিস্থলের ২০০ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যেই বাস করেন এক কোটি ১০ লাখের বেশি মানুষ। ইউএসজিএসের হিসাবে, ২০ লাখের বেশি মানুষ অত্যন্ত তীব্র কম্পনের মুখে পড়েছেন।
সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, এই মাত্রার কম্পনে দুর্বল কাঠামোর ভবনে ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে। ভূমিধস ও মাটি তরলীকরণের ঝুঁকি নিয়েও ৪ লাখ ৩০ হাজারের বেশি বাসিন্দার জন্য সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
মূল কম্পনের পর কয়েক ঘণ্টায় একাধিক পরাঘাত অনুভূত হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে বড়টির মাত্রা ছিল ৫ দশমিক শূন্য। জানা গেছে, গত ৩৪ বছরের মধ্যে কলম্বিয়ায় আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প এটি।
দুই মাসেই দ্বিতীয় বড় দুর্যোগ
লাতিন আমেরিকার জন্য এটি অল্প সময়ের ব্যবধানে দ্বিতীয় বড় ভূমিকম্প। গত ২৪ জুন প্রতিবেশী ভেনেজুয়েলায় ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার জোড়া ভূমিকম্পে ছয় হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারান।
ওই দুর্যোগে শত শত ভবন ধ্বংস হয়ে যায় এবং পুনর্গঠন ব্যয় কয়েক হাজার কোটি ডলারে দাঁড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।