আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ক্রাইম ক্রনিকল
ইরান দাবি করেছে, তাদের ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানের জবাবে বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরে হামলা চালানো হয়েছে। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস জানিয়েছে, হামলায় ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে এবং অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
বুধবার (১০ জুন) সকালে আইআরজিসির এক বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রতিক্রিয়ায় এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তারা সতর্ক করে জানিয়েছে, ওয়াশিংটন যদি সামরিক অভিযান চালিয়ে যায়, তবে ভবিষ্যতে আরও কঠোর জবাব দেওয়া হবে।
এর আগে সোমবার হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি অ্যাপাচি সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, হেলিকপ্টারটি ইরান ভূপাতিত করেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড ইরানের উপকূলীয় কয়েকটি স্থানে হামলা চালায়।
সেন্টকম এক বিবৃতিতে জানায়, মার্কিন হেলিকপ্টার ভূপাতিত করা এবং বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার অভিযোগের প্রেক্ষাপটে ‘সমানুপাতিক প্রতিক্রিয়া’ হিসেবে ওই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
অন্যদিকে আইআরজিসি দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্র ‘মিথ্যা অজুহাতে’ ইরানের জাস্ক, সিরিক ও কিশম অঞ্চলের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব হামলায় সিরিক এলাকার একটি টেলিযোগাযোগ টাওয়ার এবং দুটি পানির ট্যাংক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এরই জবাবে বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে বলে জানানো হয়।
পারস্য উপসাগরীয় দেশ বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর অবস্থিত। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সংঘাত শুরুর পর বাহরাইনের রাজধানী এলাকায়ও ইরানের হামলার ঘটনা ঘটেছিল বলে বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।