নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া | ক্রাইম ক্রনিকল


বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের গ্রামের বাড়ির নাম অনুসারে ‘মীরবাড়ি’ নামে নতুন ইউনিয়ন পরিষদ গঠন করেছে সরকার। একই প্রশাসনিক পুনর্গঠনের আওতায় নবগঠিত মোকামতলা উপজেলায় ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’ নামে আরও দুটি নতুন ইউনিয়ন গঠন করা হয়েছে। স্থানীয় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সূত্র বলছে, এই দুটি নাম প্রতিমন্ত্রীর দুই সন্তানের নামের সঙ্গে মিলে যায়, যা নিয়ে এলাকায় আলোচনা শুরু হয়েছে।

রোববার (১৪ জুন) সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে নতুন ইউনিয়ন গঠন, ইউনিয়ন পুনর্গঠন এবং শিবগঞ্জ পৌরসভার সীমানা সম্প্রসারণসংক্রান্ত গেজেট প্রকাশের তথ্য জানানো হয়।




সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শিবগঞ্জ উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের বিভিন্ন অংশ নিয়ে নতুন ‘মীরবাড়ি’ ইউনিয়ন পরিষদ গঠন করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী এবং বগুড়া-২ আসনের সংসদ সদস্য মীর শাহে আলমের বেতগাড়িস্থ গ্রামের বাড়ির নাম ‘মীরবাড়ি’। সেই নাম অনুসারেই নতুন ইউনিয়নের নামকরণ করা হয়েছে।


প্রকাশিত গেজেট অনুযায়ী, ফেনীগ্রাম, সৈয়দপুর, চন্দনপুর, দোপাড়া, তেয়াইল, গোরনা, ধামাহার, বাদলদিঘী, বেতগাড়ি, রামকান্দি, চকগোপাল, ডাবুর, চককানু, হরিপুর ও গোপিনাথপুরসহ ১৫টি মৌজা নিয়ে গঠিত হয়েছে মীরবাড়ি ইউনিয়ন। নতুন ইউনিয়নের জনসংখ্যা ১৮ হাজার ৯২৪ জন।


অন্যদিকে প্রশাসনিক পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে নবগঠিত মোকামতলা উপজেলার অধীনে স্বর্ণগ্রাম, সীমান্ত ও দিগন্ত নামে তিনটি নতুন ইউনিয়ন গঠন করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’ নাম দুটি প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের দুই সন্তানের নাম। ফলে একই প্রশাসনিক পুনর্গঠনে প্রতিমন্ত্রীর গ্রামের বাড়ির নামে একটি ইউনিয়ন এবং তাঁর দুই সন্তানের নামে আরও দুটি ইউনিয়নের নামকরণ হয়েছে বলে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

এ ছাড়া নতুন ইউনিয়ন গঠন ও শিবগঞ্জ পৌরসভার সীমানা সম্প্রসারণের কারণে বিহার, রায়নগর, বুড়িগঞ্জ, কিচক ও আটমুল ইউনিয়ন পুনর্গঠন করা হয়েছে।


জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, মোকামতলা ইউনিয়নকে বিভক্ত করে পৃথক পৌরসভা গঠনের প্রক্রিয়াও চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।


প্রশাসনিক পুনর্গঠনের এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পর্যায়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বিশেষ করে একই প্রক্রিয়ায় প্রতিমন্ত্রীর গ্রামের বাড়ি এবং তাঁর দুই সন্তানের নামে তিনটি ইউনিয়নের নামকরণ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে। তবে এ বিষয়ে সরকার বা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।