আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ক্রাইম ক্রনিকল

আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সংযোগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে একাধিক অবকাঠামো প্রকল্পের বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করতে সম্মত হয়েছে ভারত ও মিয়ানমার। এর মধ্যে অন্যতম হলো ভারত-মিয়ানমার-থাইল্যান্ড ত্রিপক্ষীয় মহাসড়ক (সুপারহাইওয়ে) প্রকল্প, যার কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে দুই দেশ একমত হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রি।

সোমবার নয়াদিল্লিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, আঞ্চলিক বাণিজ্য, যোগাযোগ ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি করতে বিভিন্ন অবকাঠামো উদ্যোগের অগ্রগতি ত্বরান্বিত করার বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। তবে প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়নের নির্দিষ্ট সময়সীমা এখনো ঘোষণা করা হয়নি।

প্রায় ১ হাজার ৪০০ কিলোমিটার দীর্ঘ ভারত-মিয়ানমার-থাইল্যান্ড মহাসড়ক ভারতের মণিপুর রাজ্যকে মিয়ানমারের মধ্য দিয়ে থাইল্যান্ডের সঙ্গে সংযুক্ত করবে। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে পণ্য পরিবহন ও বাণিজ্য সহজতর করার লক্ষ্যেই এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তবে মিয়ানমারের চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতির কারণে প্রকল্পটির অগ্রগতি বারবার বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

দুই দেশের বৈঠকে বিরল খনিজ ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খনিজসম্পদে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়েও আলোচনা হয়। ভারতের কৌশলগত ও শিল্পখাতের জন্য এসব সম্পদের গুরুত্ব থাকলেও বিশ্লেষকদের মতে, উল্লেখযোগ্য অংশ বিদ্রোহী-নিয়ন্ত্রিত এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় বাস্তবায়নে নানা চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।

এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয় মিয়ানমারের সামরিক নেতা মিন অং হ্লাইংয়ের ভারত সফরের সময়। ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর পশ্চিমা দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞার মুখে থাকা মিন অং হ্লাইং ৩০ মে ভারতে পৌঁছান। রাষ্ট্রপতি হিসেবে এটি তার প্রথম বিদেশ সফর।

বিশ্লেষকদের মতে, মিয়ানমারের ভৌগোলিক ও কৌশলগত অবস্থানের কারণে এই সফর আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতিতে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। দেশটি ভারত ও চীনের মধ্যকার কৌশলগত প্রতিযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। ইতোমধ্যে চীন মিয়ানমারের খনিজসম্পদ ও রাজনৈতিক কাঠামোর সঙ্গে গভীর সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। ভারতও দীর্ঘদিন ধরে মিয়ানমারের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক জোরদারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর দুই দেশের সম্পর্ক কিছুটা শীতল হলেও বর্তমানে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের নতুন সম্ভাবনা দেখছে নয়াদিল্লি।


ভারতীয় ব্যবসায়ীদের মিয়ানমারে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে মিন অং হ্লাইং বিশেষভাবে ইয়াদানাবন সাইবার সিটি প্রকল্পসহ বিভিন্ন উন্নয়ন উদ্যোগে অংশগ্রহণের অনুরোধ জানান। একই সঙ্গে তিনি বিনিয়োগের জন্য নিরাপদ ও অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন বলে জানিয়েছে মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।

বৈঠকে কালাদান মাল্টি-মোডাল ট্রানজিট প্রকল্প এবং ভারত-মিয়ানমার-থাইল্যান্ড মহাসড়ককে আঞ্চলিক বাণিজ্য বৃদ্ধির গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়। সংশ্লিষ্টদের আশা, এসব উদ্যোগ আসিয়ান-ভারত অর্থনৈতিক করিডরকে আরও শক্তিশালী করবে।

ভারত সফরকালে মিন অং হ্লাইং ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করেন। এছাড়া তিনি বিহারের বোধগয়ায় মহাবোধি মন্দির পরিদর্শন ও প্রার্থনায় অংশ নেন। সফরের অংশ হিসেবে তার মুম্বাইয়ে একটি ব্যবসায়িক ফোরামেও অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। সামগ্রিকভাবে, এই সফর ও দ্বিপক্ষীয় সমঝোতাগুলো দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় যোগাযোগ, বাণিজ্য এবং কৌশলগত সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।