আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ক্রাইম ক্রনিকল


মধ্যপ্রাচ্যে ফের উত্তপ্ত পরিস্থিতি। যুদ্ধবিরতি আলোচনা টেনে যাওয়ার মাঝেই ইরানের সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। জবাবে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী আইআরজিসি মার্কিন বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলার দাবি করেছে।


গত সপ্তাহান্তে ইরানের উপকূলে অবস্থিত কয়েকটি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয় বলে নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে সেন্টকম জানায়, আন্তর্জাতিক জলসীমায় মার্কিন একটি এমকিউ-১ ড্রোন ভূপাতিত করার ঘটনার জবাবেই এই হামলা চালানো হয়েছে।




“হুমকি দূর করতে বিমান হামলা”


সেন্টকম জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমান ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, একটি স্থল কন্ট্রোল স্টেশন এবং দুটি ওয়ান-ওয়ে অ্যাটাক ড্রোন ধ্বংস করেছে। ওই ড্রোন দুটি আন্তর্জাতিক জলসীমায় চলাচলকারী জাহাজের জন্য স্পষ্ট হুমকি তৈরি করেছিল বলে দাবি করে সেন্টকম।


একই সঙ্গে হুশিয়ারি দিয়ে তারা বলে, যুদ্ধবিরতি চলাকালেও মার্কিন স্বার্থ ও সম্পদ রক্ষায় এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।


ইরানের জবাব


অপরদিকে, সোমবার (১ জুন) এক বিবৃতিতে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানায়, দক্ষিণ ইরানে মার্কিন হামলার জবাবে তারা একটি মার্কিন বিমানঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। তবে কোন ঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়েছে তা স্পষ্ট করেনি তারা।



ছবিটি ইসরাইলবিরোধী একটি দেওয়ালচিত্রের পাশে হেঁটে যাওয়া এক নারীর। ২০২৬ সালের ৩০ মে তেহরানে এটি তোলা। ছবি: রয়টার্স


কুয়েতে আতঙ্ক, সাইরেনে ফাঁকা রাস্তা


এদিকে, প্রতিবেশী দেশ কুয়েতে তীব্র আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। সোমবার দেশটির আকাশসীমায় একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে। কুয়েতের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কুনা জানিয়েছে, দেশটির বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী এসব ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আটকাতে সক্ষম হয়েছে। সাইরেন বাজতে থাকায় সাধারণ মানুষ ঘর থেকে না বের হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


উল্লেখ্য, কুয়েতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বড় বিমানঘাঁটি অবস্থিত। ধারণা করা হচ্ছে, সেই ঘাঁটিই ইরানের প্রধান লক্ষ্য ছিল।


যুদ্ধবিরতি নিয়ে জটিলতা, বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল


যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে গত এপ্রিলের শুরু থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও কয়েক দফায় ছোটখাটো সংঘর্ষ চলছে। ঠিক গত বৃহস্পতিবারও একই ধরনের হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে।


গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরান ও লেবাননে সামরিক অভিযান শুরু করলে তাতে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটে। এতে এখন পর্যন্ত প্রধানত ইরান ও লেবাননে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। এছাড়া, হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে গেছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করছে।


ট্রাম্প যা বললেন


হামলা-পাল্টা হামলার মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গভীর রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে সহিংসতার বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে লেখেন: “জাস্ট সিট ব্যাক এন্ড রিল্যাক্স, ইট উইল ওয়ার্ক আউট ওয়েল ইন দ্য এন্ড - ইট অলওয়েজ ডাজ!” পাশাপাশি তিনি সেই পুরনো দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, “ইরান রিয়েলি ওয়ান্ট্স টু মেইক এ্য ডিল।”


নির্বাচনের আগে জ্বালানি তেলের দাম কমাতে চাপে থাকা ট্রাম্প একদিকে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও, অন্যদিকে নিজ দলের ইরান-বিরোধী সদস্যদের সমালোচনার মুখে পড়েছেন। তিনি সমালোচকদের - যাদের মধ্যে ‘আপাতদৃষ্টিতে অদেশপ্রেমিক রিপাবলিকানরাও’ আছে বলে মন্তব্য করেছেন - তাদের ‘নেগেটিভ চির্পিং’ বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন।