রাজনীতি ডেস্ক | ক্রাইম ক্রনিকল
টেলিভিশন টকশোতে বাগ্বিতণ্ডার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও পাল্টাপাল্টি পোস্ট দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার তুষার।
সোমবার (১৭ আগস্ট) গভীর রাতে এটিএন নিউজের নিয়মিত আয়োজন ‘স্বাধীন সংলাপ’-এ সরকারের ১৮০ দিনের কার্যক্রম মূল্যায়ন নিয়ে আলোচনায় অংশ নেন তাঁরা দুজন।
আলোচনার শেষ পর্যায়ে বিতর্ক ব্যক্তিগত আক্রমণে রূপ নেয়। বিয়ে ও নারী নিপীড়নের প্রসঙ্গ ওঠার পর সরোয়ার তুষারকে বলতে শোনা যায়, তিনি বিয়েই করেননি।
যেভাবে শুরু
টকশোতে জুলাই আন্দোলনে কার ভূমিকা কী ছিল, তা নিয়ে তর্কে জড়ান দুই বক্তা।

রাশেদ খাঁনের ভাষ্য অনুযায়ী, সরোয়ার তুষার তাঁকে প্রশ্ন করেন প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তখন কোথায় ছিলেন। জবাবে তিনি জানান, তাঁরা তখন নির্বাসনে থেকে কাজ করেছেন।
পাল্টা প্রশ্নে তিনি সরোয়ার তুষারকে জিজ্ঞাসা করেন তিনি কোথায় ছিলেন। জবাবে সরোয়ার তুষার জানান, ১৯ জুলাই তিনি মাঠে ছিলেন।
রাশেদ খাঁনের দাবি, এরপর সুনির্দিষ্ট উত্তর না দিয়ে সরোয়ার তুষার তাঁকে মিথ্যাবাদী ও অভদ্র বলে আক্রমণ করতে থাকেন।
অন্যদিকে তুষারের বক্তব্য ছিল, রাশেদ খাঁন প্রায়ই এমন সব দাবি করেন যা যাচাই করলে মেলে না।
মঙ্গলবারের পোস্ট
মঙ্গলবার দুপুর ১টা ১৯ মিনিটে ফেসবুক পোস্টে জবাব দেন রাশেদ খাঁন। তিনি লেখেন, ব্যক্তিগত আক্রমণ করা হলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

তাঁর দাবি, জামায়াত ও এনসিপি নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের কথা বলে আদতে ‘ভণ্ডবস্তের রাজনীতি’ শুরু করেছে।
২০২৪ সালের ১৯ জুলাই নুরুল হক নুরকে গ্রেপ্তারের পর নিজের বাড়িতে দুবার অভিযান চালানো হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন। এরপর তিনি আন্দোলন সফল করতে রাজনৈতিক কর্মপন্থা নির্ধারণে কাজ করেছেন বলে উল্লেখ করেন।
সরোয়ার তুষারের শিক্ষাগত পটভূমি নিয়েও মন্তব্য করেন রাশেদ খাঁন। মঙ্গলবার রাত ২টার দিকে দেওয়া আরেকটি পোস্টে তিনি নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতার বিবরণ তুলে ধরে সরোয়ার তুষারের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
বুধবারের অগ্রগতি
বুধবার (১৯ আগস্ট) প্রকাশিত এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিতর্ক এখনো চলমান। রাশেদ খাঁন সরোয়ার তুষারকে ফের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে চাইলে শিক্ষার খরচ বহনের প্রস্তাব দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
টেলিভিশন টকশো থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুজনের এই তর্ক-বিতর্ক ক্রমেই তীব্র হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তথ্যসূত্র: এটিএন নিউজের ‘স্বাধীন সংলাপ’, রাশেদ খাঁন ও সরোয়ার তুষারের ফেসবুক পোস্ট