নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা | ১৫ জুলাই ২০২৬


জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার আর কোনো সুযোগ নেই। তাঁর দাবি, দেশে ফিরলেই শেখ হাসিনাকে গ্রেপ্তার করে আদালতের রায় কার্যকর করা হবে।


বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের মোজাফ্‌ফর আহমেদ চৌধুরী অডিটোরিয়ামে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত ‘স্মরণগাথায় জুলাই বিপ্লবের দিনগুলো’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। জাতীয় ছাত্রশক্তির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।


নাহিদ ইসলাম বলেন, শেখ হাসিনার মামলার রায় ঘোষণার পর আইনি বিধান অনুযায়ী আপিল করার জন্য ৩০ দিনের সময় ছিল। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপিল না করায় এখন আর সেই সুযোগ নেই।

সম্প্রতি একটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে শেখ হাসিনার দেওয়া সাক্ষাৎকারের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরে আত্মসমর্পণের কথা বলেছেন। তবে তিনি কবে ফিরবেন, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত সরকারের ওপর নির্ভর করবে বলেও মন্তব্য করেন নাহিদ ইসলাম।


তিনি আরও বলেন, সরকারের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে যে আত্মসমর্পণের কোনো সুযোগ নেই। তাঁর দাবি, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে বিমানবন্দর থেকেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হবে এবং আদালতের দেওয়া রায় কার্যকর করা হবে।


সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে নাহিদ ইসলাম বলেন, আপিলের বিষয়টি আইন বিবেচনা করবে—এমন ইঙ্গিত দেওয়া হলেও তাঁর মতে, বর্তমান অবস্থায় আপিলের কোনো সুযোগ অবশিষ্ট নেই।

আলোচনা সভায় ২০২৪ সালের ১৫ জুলাইয়ের ঘটনাবলির প্রসঙ্গও তুলে ধরেন এনসিপির আহ্বায়ক। তিনি ওই দিনের হামলার সঙ্গে জড়িতদের তালিকা প্রকাশ, দ্রুত গ্রেপ্তার এবং তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। পাশাপাশি হামলাকে সমর্থন বা বৈধতা দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।


সংস্কার প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, গণ-অভ্যুত্থানের পর যে সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তার বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। তাঁর ভাষ্য, গুমবিরোধী অধ্যাদেশ, পুলিশ সংস্কার, বিচার বিভাগের পৃথক সচিবালয়সহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ বাতিল করা হয়েছে। নতুন সংবিধান বা সাংবিধানিক পুনর্গঠনের দাবিও সংশোধনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।


তিনি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা নতুন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভিত্তি হওয়া উচিত। বৈষম্যমুক্ত, অন্তর্ভুক্তিমূলক, গণতান্ত্রিক এবং স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে সেই আদর্শকে সামনে রেখে রাজনীতি পরিচালনার আহ্বান জানান তিনি।


অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন এনসিপির সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন, জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি জাহিদ আহসান এবং সাধারণ সম্পাদক আবু বাকের মজুমদার। এছাড়া এনসিপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।


আলোচনা সভার পাশাপাশি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে শিশুদের জন্য আয়োজিত চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।