নিজস্ব প্রতিবেদক | ক্রাইম ক্রনিকল
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও অক্সফোর্ড ইউনিয়নের আমন্ত্রণে যুক্তরাজ্যে বক্তব্য দেওয়ার দাবি ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত কয়েকটি পোস্ট ও ভিডিও বিশ্লেষণ করে লেখক ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট মহিউদ্দিন মোহাম্মদ দাবি করেছেন, বাংলাদেশি দুই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব আবু সাদিক কায়েম ও হাসনাত আব্দুল্লাহ যে অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন, সেটি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় বা অক্সফোর্ড ইউনিয়নের কোনো আনুষ্ঠানিক আয়োজন ছিল না; বরং ব্যক্তিগতভাবে ভাড়া নেওয়া একটি অনুষ্ঠানে তারা বক্তব্য দিয়েছেন।

মহিউদ্দিন মোহাম্মদের ভাষ্য অনুযায়ী, অক্সফোর্ড ইউনিয়নের ঐতিহাসিক ডিবেটিং চেম্বার সাধারণ মানুষের জন্য নির্দিষ্ট ফি পরিশোধের মাধ্যমে ভাড়া নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। অক্সফোর্ড ইউনিয়নের ওয়েবসাইটেও ‘প্রাইভেট হায়ার’ (Private Hire) নামে এ–সংক্রান্ত পৃথক বিভাগ রয়েছে।
বিষয়টি যাচাই করতে তিনি নিজেই ওই ডিবেটিং চেম্বার ১৩ আগস্ট ২০২৬ তারিখে বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত ‘Mohiuddin Mohammad Fan Club UK’ নামে বুকিং দিয়েছেন বলে দাবি করেন। তাঁর দেওয়া তথ্যমতে, এ জন্য ২ হাজার ৪৮ পাউন্ড ফি পরিশোধ করা হয়েছে এবং একটি রিজার্ভেশন নম্বরও ইস্যু করা হয়েছে।
অক্সফোর্ড কর্তৃপক্ষকে ই-মেইল
সাদিক কায়েম ও হাসনাত আব্দুল্লাহ সত্যিই অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় বা অক্সফোর্ড ইউনিয়নের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণে অংশ নিয়েছিলেন কি না, তা জানতে অক্সফোর্ড ইউনিয়ন কর্তৃপক্ষের কাছে ই-মেইল পাঠান মহিউদ্দিন মোহাম্মদ।
ই-মেইলে তিনি চারটি বিষয় জানতে চান—উক্ত অনুষ্ঠান অক্সফোর্ড ইউনিয়নের আনুষ্ঠানিক আয়োজন ছিল কি না, বক্তাদের কোনো আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ দেওয়া হয়েছিল কি না, ডিবেটিং চেম্বারটি ব্যক্তিগতভাবে ভাড়া নেওয়া হয়েছিল কি না এবং অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো কর্তৃপক্ষ এ আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত ছিল কি না।
মহিউদ্দিন মোহাম্মদের দাবি, পরে টেলিফোন ও ই-মেইলের মাধ্যমে তিনি যে উত্তর পেয়েছেন, তাতে জানানো হয়েছে—অনুষ্ঠানটি ছিল ব্যক্তিগতভাবে আয়োজিত একটি ইভেন্ট এবং নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কেবল ডিবেটিং চেম্বার ভাড়া দেওয়া হয়েছিল। আয়োজন, পরিকল্পনা বা অতিথি আমন্ত্রণের সঙ্গে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা অক্সফোর্ড ইউনিয়ন আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত ছিল না।
তাঁর ভাষ্যমতে, অক্সফোর্ড ইউনিয়নের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, কেউ যদি অনুষ্ঠানটিকে বিশ্ববিদ্যালয় বা ইউনিয়নের আনুষ্ঠানিক আয়োজন হিসেবে প্রচার করে থাকে, তবে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কী দাবি করা হয়েছিল
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় আবু সাদিক কায়েমকে অক্সফোর্ড ইউনিয়নের ভবনের সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে বক্তব্য দিতে দেখা যায়। পোস্টের বর্ণনায় তিনি উল্লেখ করেন, অক্সফোর্ড ইউনিয়নের মঞ্চে বক্তব্য দেওয়া তাঁর জন্য স্বপ্নপূরণের মতো অভিজ্ঞতা।
মহিউদ্দিন মোহাম্মদের দাবি, ওই ভিডিওর একটি অংশে সাদিক কায়েম বলেছেন, তিনি ‘অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির আমন্ত্রণে’ সেখানে গেছেন।
অন্যদিকে, হাসনাত আব্দুল্লাহর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ ‘Hasnat for Cumilla-4’-এ প্রকাশিত একটি ভিডিওর শিরোনামে লেখা হয়, ‘অক্সফোর্ড ইউনিয়নের আমন্ত্রণে ঐতিহাসিক সেমিনার কক্ষে হাসনাত আব্দুল্লাহ’। একই পোস্টের ক্যাপশনেও অক্সফোর্ড ইউনিয়নের ঐতিহাসিক সেমিনার কক্ষে তাঁর বক্তব্যের উল্লেখ করা হয়।
অক্সফোর্ড শিক্ষার্থীর মন্তব্য
অক্সফোর্ডে অধ্যয়নরত এক বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় বা অক্সফোর্ড ইউনিয়নের আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠান হলে সাধারণত তা আগেভাগেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ইভেন্ট ক্যালেন্ডার, অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ও ভেরিফায়েড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হয়। অংশগ্রহণকারীদেরও আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়।
তাঁর দাবি, আলোচিত অনুষ্ঠানটির ক্ষেত্রে এমন কোনো আনুষ্ঠানিক প্রচারণা বা বিজ্ঞপ্তি তাঁর নজরে আসেনি।
যা বলছেন মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
মহিউদ্দিন মোহাম্মদ মনে করেন, অক্সফোর্ডের মতো আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে জনমনে ভিন্ন ধারণা তৈরি করার চেষ্টা করা হয়েছে। তাঁর ভাষায়, প্রকৃতপক্ষে এটি স্থানীয় প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্যোগে আয়োজিত একটি ব্যক্তিগত অনুষ্ঠান হয়ে থাকলে সেটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ বা আয়োজন হিসেবে উপস্থাপন করা বিভ্রান্তিকর।
তবে এ বিষয়ে এখনো আবু সাদিক কায়েম, হাসনাত আব্দুল্লাহ কিংবা সংশ্লিষ্ট আয়োজকদের বক্তব্য পাওয়া যায় নি।