রাজনীতি ডেস্ক | ক্রাইম ক্রনিকল

দীর্ঘদিনের যুগপৎ আন্দোলনের সময় নির্বাচনে জয়ী হলে শরিক দলগুলোকে নিয়ে ‘জাতীয় সরকার’ গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিএনপি। তবে ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সরকার গঠন হলেও সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তব প্রতিফলন খুবই সীমিত বলে মনে করছেন জোটের অনেক নেতা। সরকারে শরিকদের প্রতিনিধিত্ব সীমাবদ্ধ রয়েছে মাত্র তিনজন নেতার মধ্যে, যা নিয়ে বিভিন্ন মহলে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ২০২২ সালে লন্ডনে এক অনুষ্ঠানে প্রথম ‘জাতীয় সরকার’ গঠনের ধারণা তুলে ধরেন। পরবর্তী সময়ে দলটির শীর্ষ নেতারাও বারবার বলেন, নির্বাচনে জয়ী হলে সরকারবিরোধী আন্দোলনের শরিক দলগুলোকে সঙ্গে নিয়েই সরকার পরিচালনা করা হবে।

নির্বাচনে বিএনপি যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের জন্য ১৫টি আসন ছেড়ে দেয়। তবে এসব আসনের মধ্যে মাত্র পাঁচটিতে জয় আসে। বিজয়ীদের মধ্যে গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি, গণ অধিকার পরিষদের নুরুল হক এবং এনডিএম থেকে বিএনপিতে যোগ দেওয়া ববি হাজ্জাজ সরকারে স্থান পান। অন্যদিকে জয়ী হওয়া শাহাদাত হোসেন সেলিম ও আন্দালিভ রহমান পার্থ মন্ত্রিসভায় জায়গা পাননি।

এ নিয়ে শরিকদের একটি অংশের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, বিএনপি যে জাতীয় সরকারের কথা বলেছিল, বাস্তবে তা হয়নি। তার ভাষায়, বর্তমান সরকার মূলত বিএনপির সরকার, অন্য দল থেকে কয়েকজনকে প্রতিমন্ত্রী করা হলেও সেটিকে জাতীয় সরকার বলা যায় না।

বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হকও একই ধরনের প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, বিএনপি নিজেই ‘রেইনবো নেশন’ গঠনের কথা বলেছিল। কিন্তু জাতীয় সরকার নিয়ে এখন আর কোনো দৃশ্যমান আলোচনা নেই।

অন্যদিকে গণ অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান এখনো আশাবাদী। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিএনপির ঘোষিত সংস্কার কর্মসূচি ও জাতীয় সরকার গঠনের প্রতিশ্রুতি ধাপে ধাপে বাস্তবায়িত হবে বলে তার বিশ্বাস।

জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের নেতাদের মধ্যেও ক্ষোভের সুর শোনা যাচ্ছে। নির্বাচনে চারটি আসন পেলেও দলটির কোনো প্রার্থী জয়ী হতে পারেননি। দলটির সভাপতি উবায়দুল্লাহ ফারুক প্রকাশ্যেই বিএনপির প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি ও পরবর্তী বাস্তবতার মধ্যে একটি স্পষ্ট ব্যবধান তৈরি হয়েছে। এতে জোট রাজনীতির ভবিষ্যৎ, শরিকদের ভূমিকা এবং বিএনপির রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

তবে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও শিল্প উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী দাবি করেছেন, জাতীয় সরকার গঠনের প্রতিশ্রুতি এখনো বহাল রয়েছে। তার মতে, সরকার নির্বাচনী অঙ্গীকারগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করছে এবং উপযুক্ত সময়ে জাতীয় সরকার গঠনের বিষয়টিও বাস্তবায়িত হবে।