নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
সরকার ঘোষিত বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের সব মহানগরে আজ বৃহস্পতিবার বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। একই সঙ্গে দলটি বিদ্যুতের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণের দাবি জানিয়েছে।
বুধবার জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এক বিবৃতিতে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন। বিবৃতিতে বলা হয়, ৪ জুন দেশের সব মহানগরী শাখার উদ্যোগে প্রতিবাদী বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হবে। ঢাকা মহানগরীর উদ্যোগে বিকেল ৫টায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে।
বিবৃতিতে মিয়া গোলাম পরওয়ার বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধিকে ‘গণবিরোধী’, ‘অযৌক্তিক’ ও ‘অমানবিক’ সিদ্ধান্ত হিসেবে উল্লেখ করে এর তীব্র প্রতিবাদ জানান। তিনি বলেন, আসন্ন জাতীয় বাজেটকে সামনে রেখে তড়িঘড়ি করে বিদ্যুতের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের ওপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি করবে।
তিনি দাবি করেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে এমনিতেই মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে উঠেছে। এর মধ্যে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো জনগণের ওপর অতিরিক্ত বোঝা চাপানোর শামিল।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) ঘোষণায় পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের গড় দাম প্রতি ইউনিট ৭ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮ টাকা ৩৯ পয়সা এবং খুচরা পর্যায়ে ৯ টাকা ১১ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১০ টাকা ৬৩ পয়সা করা হয়েছে। একই সঙ্গে সঞ্চালন চার্জও প্রায় ২৪ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির ফলে শিল্প, কৃষি ও ব্যবসা-বাণিজ্যের উৎপাদন ব্যয় বাড়বে। এর প্রভাব নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারেও পড়বে এবং চাল, ডাল, তেলসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম আরও বাড়তে পারে।
মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, বিদ্যুৎ খাতের দুর্নীতি, অপচয় এবং কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর ক্যাপাসিটি চার্জের বোঝা জনগণের ওপর চাপিয়ে দিতে বারবার বিদ্যুতের মূল্য বাড়ানো হচ্ছে। জনগণের প্রতি সরকারের দায়বদ্ধতা থাকলে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হতো না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
এদিকে বুধবার সংবাদ সম্মেলনে বিইআরসি বিদ্যুতের নতুন মূল্যহার ঘোষণা করে। কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম গড়ে ১৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ, সঞ্চালন চার্জ ২৩ দশমিক ৯৬ শতাংশ এবং গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম গড়ে ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। নতুন এই মূল্যহার জুন মাস থেকেই কার্যকর হবে।
জামায়াতে ইসলামী অবিলম্বে বিদ্যুতের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার, বিদ্যুৎ খাতের অনিয়ম ও অপচয় বন্ধ এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।