ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পর্যায়ের কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলেছেন তার বড় ভাই শরীফ ওমর বিন হাদি।
সম্প্রতি নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, ওসমান হাদি হত্যার ‘পেক্ষাপট তৈরিতে’ জামায়াতে ইসলামীর আমিরের একজন ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) জড়িত ছিলেন। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, ঢাকা-৮ আসন থেকে ওসমান হাদিকে সরিয়ে দিতে তাদের ওপর চাপ প্রয়োগ করা হয়েছিল।

ওমর হাদি আরেক পোস্টে দাবি করেন, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের কয়েকজন উপদেষ্টা এবং বিএনপির কয়েকজন সংসদ সদস্য (এমপি) ও মন্ত্রী পর্যায়ের ব্যক্তি জড়িত। তবে তিনি এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো তথ্য-প্রমাণ প্রকাশ করেননি।

প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সবাইকে বিচারের আওতায় আনতে হবে। তার ভাষ্য, ওসমান হাদি হত্যার বিচার বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য একটি ‘রেড লাইন’।
এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামী, বিএনপি কিংবা অভিযোগে উল্লিখিত কোনো ব্যক্তির বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
শরীফ ওমর বিন হাদি ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র এবং নিহত ওসমান হাদির বড় ভাই। ভাইয়ের মৃত্যুর পর থেকে তিনি হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে বিভিন্ন সময়ে প্রকাশ্যে বক্তব্য দিয়ে আসছেন। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে তাকে যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামে বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনে দ্বিতীয় সচিব পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, ওসমান হাদির মৃত্যুকে তার পরিবার ও সমর্থকেরা পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করে আসছেন। তবে হত্যাকাণ্ডের কারণ ও দায়ী ব্যক্তি বা গোষ্ঠী সম্পর্কে এখনো কোনো চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি। ফলে ওমর হাদির সাম্প্রতিক অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।