স্টাফ রিপোর্টার | ক্রাইম ক্রনিকল
দেশের উচ্চশিক্ষাকে আরও দক্ষতাভিত্তিক, কর্মমুখী ও আধুনিক করার লক্ষ্যে নতুন শিক্ষাকাঠামোর প্রস্তাব দিয়েছে সরকার। প্রস্তাবিত কাঠামোয় প্রচলিত তাত্ত্বিক শিক্ষার পাশাপাশি ব্যবহারিক দক্ষতা, ইন্টার্নশিপ, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং সফট স্কিলের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
রোববার (৭ জুন) ঢাকার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২ হাজার শিক্ষকের প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এ তথ্য জানান।
মন্ত্রী বলেন, প্রস্তাবিত রূপরেখা অনুযায়ী শিক্ষার ৪০ শতাংশ থাকবে একাডেমিক বা তাত্ত্বিক জ্ঞানের জন্য, ৩০ শতাংশ ব্যবহারিক ও পেশাগত দক্ষতার জন্য, ২০ শতাংশ ইন্টার্নশিপ, ফিল্ডওয়ার্ক ও প্রকল্পভিত্তিক শিক্ষার জন্য এবং বাকি ১০ শতাংশ উদ্যোক্তা উন্নয়ন, সফট স্কিল ও ক্যারিয়ার প্রস্তুতির জন্য বরাদ্দ রাখা হবে।
অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “আমরা এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই যেখানে শুধু ডিগ্রি অর্জনই লক্ষ্য হবে না; বরং দক্ষ ও যোগ্য মানবসম্পদ তৈরি হবে। সেই লক্ষ্য সামনে রেখেই নতুন এই কাঠামোর প্রস্তাব করা হয়েছে।”
মন্ত্রী উল্লেখ করেন, বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা ও কর্মক্ষেত্রের বাস্তব চাহিদার মধ্যে একটি ব্যবধান রয়েছে। এ ব্যবধান কমাতে হাতে-কলমে শিক্ষা, ইন্টার্নশিপ ও ফিল্ডওয়ার্কের সুযোগ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য শুধু স্নাতকের সংখ্যা বৃদ্ধি নয়, বরং দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা। এ কারণে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণের (টিভিইটি) সম্প্রসারণ ও মানোন্নয়নের উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশে ৫৭টি পাবলিক ও ১১৬টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে গবেষণা সহযোগিতা, আন্তঃসীমান্ত শিক্ষা এবং বৈশ্বিক একাডেমিক অংশীদারিত্ব বৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন, বিশ্বায়নের যুগে শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক মানের জ্ঞান, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ তৈরি করতে হবে। দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সক্ষম করে তুলতে সরকার কাজ করছে।