নিজস্ব প্রতিবেদক | ক্রাইম ক্রনিকল
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন দাবি করেছেন, মশা নিধনের প্রশিক্ষণ নিতে নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের একটি জৈব প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বাংলাদেশে যৌথ কারখানা স্থাপনের সম্ভাবনা যাচাই করতেই তাঁর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদলের যুক্তরাষ্ট্র সফরের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তবে একটি স্বার্থান্বেষী মহল সরকারের কাছে ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপন করায় সেই উদ্যোগ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

মঙ্গলবার ২ জুন, ২০২৬ দুপুর নাগাদ ফেসবুকে পোস্ট করেন চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
মেয়রের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান Valent BioSciences LLC-এর জৈবিক প্রযুক্তি ২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামি-ডেড কাউন্টিতে জিকা ভাইরাস বিস্তার নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। উল্লেখ্য, এই সফলতার জন্য ২০১৭ সালে কোম্পানিটিকে শিকাগো ইনোভেশন অ্যাওয়ার্ড দেয়া হয়। একই প্রতিষ্ঠানের মশার লার্ভা নিধনকারী জৈবিক উপাদান গত বছরের অক্টোবর থেকে চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত চসিক এলাকায় ব্যবহার করা হয়েছে এবং এতে ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে বলে দাবি করেন তিনি।
ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, এই প্রযুক্তি পানিতে প্রয়োগের পর স্বল্প সময়ের মধ্যেই মশার লার্ভা ধ্বংস করতে সক্ষম এবং এটি মানুষ, মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণীর জন্য নিরাপদ। এ সফলতার ভিত্তিতে বাংলাদেশে যৌথ উদ্যোগে একটি উৎপাদন কারখানা স্থাপনের প্রস্তাব দেওয়া হয়।
মেয়রের দাবি, প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে ভ্যালেন্ট বায়োসায়েন্সেস তাদের শিকাগো ও ফ্লোরিডার কারখানা এবং গবেষণাগার পরিদর্শনের জন্য চসিকের একটি প্রতিনিধিদলকে আমন্ত্রণ জানায়। সফরের সম্পূর্ণ ব্যয় প্রতিষ্ঠানটির বহনের কথা ছিল, ফলে সরকারের কোনো অর্থ ব্যয় হওয়ার প্রশ্ন ছিল না।
তিনি আরও বলেন, দেশে এই ধরনের কারখানা স্থাপিত হলে মশার লার্ভা নিধনে ব্যবহৃত কেমিক্যাল স্থানীয়ভাবে উৎপাদন করা সম্ভব হতো। এতে আমদানিনির্ভরতা কমার পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় এবং ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘমেয়াদি সুবিধা পাওয়া যেত।
তবে সফরটি নিয়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা এবং পরে তা বাতিল হওয়ার প্রেক্ষাপটে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। মেয়রের অভিযোগ, প্রকৃত উদ্দেশ্য সম্পর্কে ভুল তথ্য উপস্থাপনের কারণে একটি সম্ভাবনাময় উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এদিকে বিষয়টি ঘিরে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে – মশা নিয়ন্ত্রণে নতুন প্রযুক্তি ও স্থানীয় উৎপাদনের সম্ভাবনা কি বাস্তবায়িত হবে, নাকি প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকে যাবে।