নিজস্ব প্রতিবেদক, বাগেরহাট। ক্রাইম ক্রনিকল
বাগেরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য জামায়াতের মো. মশিউর রহমান খানকে নিয়ে ফেসবুকে সমালোচনামূলক পোস্ট দেওয়ার পর এক তরুণকে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে তাঁর কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়েছে বলেও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী হিসেবে পরিচিত এমডি রনি বিশ্বাস (MD Rony Biswas) সোমবার নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি পোস্ট দিয়ে বিষয়টি প্রকাশ করেন। পোস্টে তিনি লেখেন, “বাগেরহাট-০১ আসনের এমপি সাহেবকে নিয়ে যে পোস্ট দিয়েছি তার জন্য আমি ক্ষমাপ্রার্থী। আর থানায় আমাকে গ্রেফতার করা হয়নি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নেওয়া হইছিলো। আমি সুস্থভাবে স্ব শরীরে আমার পরিবারের সাথে আছি।”

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এলাকায় চলমান বিদ্যুৎ সমস্যাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট দেন রনি বিশ্বাস। ওই পোস্টে বাগেরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মশিউর রহমান খানের সমালোচনা করা হয়েছিল বলে জানা যায়। পোস্টটি প্রকাশের পর তাঁকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, থানায় কয়েক ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর রনি বিশ্বাসের কাছ থেকে একটি মুচলেকা নেওয়া হয়। পরে তিনি নিজ বাড়িতে ফিরে যান।

তবে নিজের ফেসবুক পোস্টে রনি বিশ্বাস গ্রেপ্তারের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, তাঁকে কেবল প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়েছিল এবং তিনি বর্তমানে পরিবারের সঙ্গে সুস্থ আছেন।
ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, একজন নাগরিকের রাজনৈতিক সমালোচনা বা জনপ্রতিনিধির কার্যক্রম নিয়ে মতামত প্রকাশের কারণে তাঁকে থানায় ডেকে নেওয়া কতটা সমীচীন। অন্যদিকে কেউ কেউ বলছেন, কোনো পোস্টে আপত্তিকর বা বিভ্রান্তিকর তথ্য থাকলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিষয়টি যাচাই করতে পারে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং বাগেরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মশিউর রহমান খানের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাঁদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।